চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পশ্চিম এশিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে বিমানবাহী রণতরী ও ডেস্ট্রয়ার। এ অবস্থায় ওয়াশিংটন থেকে যে কোনো সময় তেহরানে হামলার নির্দেশ আসতে পারে, এমন জল্পনা ইতোমধ্যেই ছড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতির মাঝেই ইরানের কাছে পৌঁছে গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ বার্তা। বার্তায় বলা হয়েছে, “আমেরিকা আলোচনা করতে প্রস্তুত।” তবে এখনও পর্যন্ত ইরান থেকে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়। ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। তাদের জলসীমার পাশেই আমাদের বিশাল নৌবহর রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড়।” এরপর সুর নরম করে তিনি বলেন, “ইরান চুক্তি করতে চায়। আমি জানি। তারা বহুবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা আসলে কথা বলতে চায়।”
ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের পর পেন্টাগনের এক শীর্ষ কর্তা ইরানের উদ্দেশে বার্তা দেন, “ইরানের সঙ্গে আমরা আলোচনায় রাজি।” তবে আলোচনার শর্ত কী হবে—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি খোলসা করে কিছু বলেননি। তার বক্তব্য, “আমার মনে হয়, তারা শর্তগুলো জানে। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ইরানের স্পষ্ট ধারণা আছে।” চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়ে ছিলেন, ইরান যদি তাদের মজুত ইউরেনিয়াম নষ্ট করে ফেলে, তাহলে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি দূরপাল্লার মিসাইল মজুত কমানো এবং হিজবুল্লাহর মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের শর্তও ইরানের সামনে রাখা হয়েছে।
এদিকে ইরানে ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথম দিকে আর্থিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মতো ইস্যুতে সাধারণ মানুষ পথে নামলেও পরে তা ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনের রূপ নেয়। কয়েক লাখ মানুষ আয়োজিত বিক্ষোভে খামেনেইকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি তুলেন। তাদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করেন ট্রাম্পও। পাল্টা বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়, এমনকি নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে—এমন অভিযোগও ওঠে। এর পর ট্রাম্প ইরানে হামলার হুমকি দেন। তবে কিছু দিন পর তিনি সুর নরম করে জানান, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস পেয়েছেন তিনি ইরান থেকে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিল, এতে দুই দেশের উত্তেজনা কিছুটা কমেছে।
এখন পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত। ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প ইরানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দেন, এবং সোমবার সেই যুদ্ধজাহাজ পশ্চিম এশিয়ার জলসীমায় পৌঁছে যায়। এর পরই আমেরিকা ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানায়। পেন্টাগনের সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সেই বৈঠকেই ইরানে হামলা করা হবে কি না তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে তিনি হামলা চালাবেন। তবে বাস্তবে ইরানে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।