ad
ad

Breaking News

Donald Trump

পরিকল্পনা গোপন, এগোচ্ছে রণতরী! ইরানকে কি ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’-এর ছক কষছেন ট্রাম্প?

এই পরিস্থিতিতে ইরানে আমেরিকা সামরিক অভিযান চালাবে কি না, তা নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প।

us-iran-naval-fleet-tension-2026

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ইরানকে নিয়ে আমেরিকা ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা করে রেখেছে, তা পশ্চিম এশিয়ার ঘনিষ্ঠ ‘বন্ধু’ দেশগুলিকেও জানানো হয়নি। এমনকি এই পরিকল্পনা নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরান নিয়ে আমেরিকার অবস্থান ও কৌশল একমাত্র ওয়াশিংটনই জানে।

একই সঙ্গে তিনি ফের মনে করিয়ে দেন, ইরানের দিকে একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর এগিয়ে চলেছে। যদিও ট্রাম্পের দাবি, এখনও পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চালু রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপের বিরোধিতা করে আসছে আমেরিকা। পাশাপাশি, সম্প্রতি ইরানে কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হলে তা দমন করতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের নির্দেশে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই দমন-পীড়নে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানে আমেরিকা সামরিক অভিযান চালাবে কি না, তা নিয়ে বারবার প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। বিভিন্ন সময়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। শনিবার ইরান সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “ওরা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। আমরা কী করা যায় তা দেখছি। না হলে যা হওয়ার হবে। আমাদের বড় নৌবহর ও দিকেই এগোচ্ছে। ইরান এখন সমঝোতার পথে হাঁটছে।”

ইরানে আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা এবং তা নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘনিষ্ঠ দেশগুলির অবস্থান কী—এই প্রশ্নগুলির উত্তরে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, নিজের কৌশল আগাম কাউকেই জানানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “আমি তো আমাদের পরিকল্পনার কথা ওদের বলতে পারি না। এখানে যদি আপনাকে বলি, তার পরিণতি যা হবে, বন্ধু দেশগুলিকে বললে তার চেয়েও ভয়ংকর কিছু হতে পারে।”

এর মধ্যেই বিমানবাহী যুদ্ধপোত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নেতৃত্বে একটি মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার জানিয়েছেন, তিনি আশা করেন এই নৌবহর ব্যবহার করার পরিস্থিতি তৈরি হবে না। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

এদিকে তেহরানও স্বীকার করেছে যে, আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে। সংবাদসংস্থা এএফপিকে ইরানের এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন এবং সমঝোতার পথ খোলা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ট্রাম্প যদি কোনও ধরনের সামরিক হামলার নির্দেশ দেন, তা হলে সেটিকে যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করে সর্বাত্মক প্রত্যাঘাত করা হবে।