চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ এক ‘লিমিটেড এডিশন’ পাসপোর্ট চালু করতে চলেছে মার্কিন সরকার। নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’। এই পাসপোর্টের ভিতরের পাতায় থাকবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও স্বাক্ষর। মার্কিন বিদেশ দফতর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করেছে। বুধবার হোয়াইট হাউসও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, আগামী জুলাই মাসে স্বাধীনতার ২৫০তম বর্ষ উদযাপনের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে সীমিত সংখ্যক বিশেষ নকশার পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে। তিনি বলেন, এই পাসপোর্টে থাকবে বিশেষ শিল্পকর্ম এবং উন্নত মানের চিত্র ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি এতে এমন সব নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যও থাকবে, যা মার্কিন পাসপোর্টকে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ নথিতে পরিণত করেছে।
নতুন পাসপোর্টের নকশায় ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’-এর ঠিক মাঝখানে নীল ও সাদা রঙে ট্রাম্পের মুখচ্ছবি রাখা হয়েছে। তার নিচে রয়েছে সোনালি অক্ষরে ট্রাম্পের স্বাক্ষর। একই সঙ্গে পাসপোর্টের আর একটি পাতায় স্থান পেয়েছে জন ট্রামবুলের ১৮১৯ সালের বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘ডিক্লারেশন অফ ইনডিপেনডেন্স’, যেখানে দেশের প্রতিষ্ঠাতাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করার জন্য সমবেত হওয়ার দৃশ্য ফুটে উঠেছে। শুধু ভিতরের পাতা নয়, পাসপোর্টের কভার ও ব্যাক পেজের নকশাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে পাসপোর্টের মলাটে মাঝখানে ‘বল্ড ঈগল’-এর সরকারি সিলের উপর ‘পাসপোর্ট’ শব্দটি লেখা থাকে এবং নিচে ছোট অক্ষরে থাকে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা’। নতুন নকশায় এই শব্দগুলোর বিন্যাস বদলে মলাটের উপরের অংশে বড় করে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা’ লেখা থাকবে এবং নিচে থাকবে ‘পাসপোর্ট’। পাসপোর্টের পিছনের পাতায় থাকছে ১৭৭৭ সালের আমেরিকান পতাকার ছবি। পতাকার কেন্দ্রে মূল ১৩টি উপনিবেশের প্রতীক হিসেবে থাকা ১৩টি তারার মাঝখানে খোদাই থাকবে ‘২৫০’ সংখ্যা।
হোয়াইট হাউসের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্টের জন্য কোনও অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী যে কোনও মার্কিন নাগরিকই এটি পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও শুরু হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে কয়েকটি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল দাবি করেছিল, নতুন পাসপোর্টে ট্রাম্পের ছবি থাকবে। সেই সময় প্রেসিডেন্টের দফতর বিষয়টি অস্বীকার করলেও মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত নকশায় ট্রাম্পের ছবি দেখা যাওয়ার পর সমালোচনা আরও জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে সরকারি নথি ও ভবনে ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁকে সর্বশক্তিমান ও শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।