গ্রাফিক্স: নিজস্ব
Bangla Jago Desk: মুর্শিদাবাদ: কল্যাণ বিশ্বাস: চোর-ডাকাত, সমাজের অসাধু কাজ করা ‘ দুষ্টু লোক’ দের জন্য পুলিশ মানেই বিভীষিকা। কিন্তু পুলিশের যে একটা মানবিক রূপ রয়েছে, তারাও যে সমাজের রক্ষাবাহিনী একথা অস্বীকার করা যায়না। বর্তমানে তাঁরা ‘সমাজ বন্ধু’ (Police Kindness)। কিন্তু এক অন্যরকম ঘটনার সাক্ষী হল মুর্শিদাবাদ। ছোট্ট খুদে শিশু ছুটে গেলেন থানার আইসির কাছে। একমাত্র আইসির কাছেই গেলে মিলবে সুরাহা। এই ভাবনা নিয়ে থানায় হাজির হতেই চক্ষু চড়কগাছ সকলের।
আরও পড়ুনঃ ইসরায়েল-হামাস বৈঠক: শীর্ষ নেতা-হাই প্রোফাইল বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি হামাসের
ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া-মারামারি হয়েছিল দিদির। তাতে বিস্তর বিরক্ত হন মা। কিন্তু ভাইকে কিছু না বলে শুধু তাকেই বকাবকি করলেন! পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে পুলিশের কাছে বিচার চাইতে গেল বছর নয়ের একটি মেয়ে। মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার পুলিশের কাছে মায়ের নামে অভিযোগ করল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মালা হাজরা। তার নালিশ মন দিয়ে শুনেছে পুলিশ। (Police Kindness)
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial
জানা যায়, খড়়গ্রাম থানা এলাকায় বাড়ি মালার। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে সে। সোমবার ভাইয়ের সঙ্গে খুনসুটি করছিল বলে মা বকাবকি করেন তাকে। কিন্তু ছোট্ট মেয়েটির অভিযোগ, ‘‘ মা পক্ষপাতদুষ্ট। ভাইয়ের দোষ দেখেই না। শুধু শুধু আমায় বকাবকি করল! ’’ (Police Kindness)
মেয়েটি জানায় বকা খাওয়ার পরে কাউকে কিছু না বলে কান্দির বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছিল সে। রাস্তার এক পুলিশকর্মীকে দেখতে পেয়ে সোজা তাঁর কাছে চলে যায় সে। কর্তব্যরত ওই পুলিশকর্মী তাকে নিয়ে যান কান্দি থানায়। অন্যদিকে কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা ধৈর্য ধরে তার সব কথা শোনেন। তার নাম-ঠিকানা জেনে খবর পাঠান বাড়িতে। খুদের অভিমান ভাঙিয়ে তাকে বাড়ি ফেরানো হয়।
পুলিশের এই মানবিক ভূমিকায় খুশি পরিবারের সদস্যরা। অন্য দিকে, মাকে ‘বকা’ দেওয়ায় ‘পুলিশকাকু’ কে ধন্যবাদ জানিয়েছে ছোট্ট খুদে শিশু কন্যা। বাবা রতন হাজরা বলেন, ‘‘ভাইকে মেরেছিল বলে ওর মা একটু বকেছিল। রাগ করে দাদুর বাড়ি চলে যাচ্ছিল মেয়ে। তাই বলে পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানাবে, ভাবতে পারিনি। পুলিশ অফিসার ধৈর্য ও সহানুভূতির পরিচয় দিয়েছেন। সে জন্য ওঁকে ধন্যবাদ জানালাম।’’(Police Kindness)