চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: কথায় বলে, বিপদে যে পাশে থাকে সেই প্রকৃত বন্ধু। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রবাদের মর্মার্থ সম্ভবত হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইরানের ওপর আমেরিকার হামলার পালটা চালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। বিশেষ করে ইরানি নৌসেনা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। আমেরিকাও এই জ্বালানি সঙ্কট এবং পেট্রোডলারের ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রসহ ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলিকে হরমুজ প্রণালীতে রণতরী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, ট্রাম্পের সেই তালিকায় থাকা চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া বা ব্রিটেনের মতো কোনও দেশই তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি।
মিত্র দেশগুলোর এই উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ ও ‘অভিমানী’ ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী এবং তাঁদের আসলে কারোর সাহায্যের প্রয়োজন নেই। ট্রাম্পের মতে, তিনি কেবল তাঁর বন্ধুদের মানসিকতা পরখ করে দেখছিলেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই দেশগুলি দীর্ঘকাল ধরেই মার্কিন অনুদান পেয়ে আসছে, অথচ প্রয়োজনে তারা পাশে দাঁড়াচ্ছে না। ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বয়ান আদতে তাঁর কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমেরিকার একঘরে হয়ে পড়ার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, এই সংকটে ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিচক্ষণ অবস্থান নিয়েছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনও আলোচনা হয়নি। বরং ভারত সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে। ভারতের এই কৌশলী কূটনৈতিক পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিয়েছে; হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ নিরাপদে পার হতে পেরেছে এবং বাকি জাহাজগুলি পার করানোর প্রক্রিয়াও জারি রয়েছে। সব মিলিয়ে, যেখানে ভারত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজছে, সেখানে রণতরী পাঠানোর ডাক দিয়েও সাড়া না পেয়ে বিশ্বরাজনীতিতে খানিকটা কোণঠাসা হয়ে পড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।