চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বিএনপির অন্দরমহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের প্রত্যক্ষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবার আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৩৬টি আসন নিজেদের ঝুলিতে তুলতে চলেছে। কিন্তু এই ৩৬টি আসনের জন্য দাবিদারের সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় হাজার ছুঁতে চলেছে, যা নিয়ে দলীয় মহলে রীতিমতো চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানান হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতৃত্ব শুক্রবার থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য ফর্ম বিক্রি শুরু করেছে। প্রথম দিনেই বিক্রি হয়েছে ৫০০টির বেশি ফর্ম।
উল্লেখ্য, এর আগেই বিএনপির দলীয় দফতরে প্রায় ৮০০ মহিলা আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। ফলে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বাংলাদেশে আগামী ১২ মে থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৪ সালের জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন অনুসারে ৩০০ আসনের সংসদে প্রতি ছ’টি আসনের জন্য একটি নারী আসন বরাদ্দ করা হয়। সেই হিসাবেই সংরক্ষিত মোট ৫০টি আসনের বণ্টন হবে দলগুলির প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে। বিধি অনুযায়ী, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ৩৬টি আসন। অন্যদিকে জামায়াত-ই-ইসলামি-এনসিপি জোট পাবে ১৩টি আসন। এছাড়াও নির্দল সাত জন সংসদ সদস্য যদি জোটবদ্ধ হন, তবে তাঁরা একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। তবে জোটবদ্ধ না হলে ওই ‘প্রাপ্য’ আসনটি সাধারণ নির্বাচনে সর্বাধিক নারী আসনে জয়ী দল হিসেবে বিএনপির ঝুলিতেই চলে যাবে বলে জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নারীনেত্রী, মহিলা দলের শীর্ষ নেত্রীদের পাশাপাশি প্রাক্তন ছাত্রদল-ঘনিষ্ঠ তরুণ নেত্রীরাও। অনেকে অতীতের আন্দোলনে ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত বা প্রোফাইল তৈরি করে দলীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠাচ্ছেন। এখন নজর ১২ মে-র পর দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকার দিকে।