চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: সিরিয়ার অর্থনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করে আসাদ আমলের ব্যাংকনোট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হল। ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটিতে ব্যাপক মুদ্রাসংস্কারের অংশ হিসেবে ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে নতুন নকশার জাতীয় মুদ্রা বাজারে ছাড়া হয়েছে। দামেস্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুল কাদের হুসরিহ এই নতুন নোটগুলোর উন্মোচন করেন। প্রেসিডেন্ট শারা এই নতুন ব্যাংকনোটগুলোকে অতীতের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, নতুন মুদ্রায় কোনো ব্যক্তির বন্দনা পরিহার করে জাতীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে সিরিয়ার মুদ্রায় আসাদ পরিবারের সদস্যদের প্রতিকৃতি থাকত, যা সরিয়ে এখন কৃষি ও প্রকৃতির প্রতীক যেমন—গোলাপ, গম, জলপাই, কমলা এবং তুঁত ফল স্থান পেয়েছে।
New Syrian banknotes issued by their Central Bank for the first time in over 5 decades do not feature any of the Asad’s family members on them and have a nice colored design with various plants native to Syria pic.twitter.com/v7RYR3w9ok
— Michael Elgort (@just_whatever) December 30, 2025
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই মুদ্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিরিয়ার মুদ্রামান থেকে দুটি শূন্য বাদ দেওয়া হয়েছে (রিডিনমিনেশন), যার ফলে ১০০ পুরনো সিরীয় পাউন্ড এখন থেকে ১ নতুন পাউন্ডের সমান হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই রূপান্তরের জন্য ৯০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যে সময়ে পুরনো ও নতুন উভয় নোটই ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে, কেবল শূন্য বাদ দেওয়া বা নকশা পরিবর্তন করলেই অর্থনীতির রাতারাতি উন্নতি হবে না। প্রেসিডেন্ট শারা জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস এবং ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। ২০১১ সাল থেকে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং অস্থিতিশীলতার কারণে সিরীয় পাউন্ড তার মূল্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ হারিয়েছিল।
নতুন এই মুদ্রা চালুর উদ্যোগটি সাধারণ মানুষের মধ্যে হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, ব্যাপক ভিত্তিক সংস্কার ছাড়া কেবল নতুন মুদ্রা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কতটা সহায়ক হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।