চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভেনেজুয়েলার উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্স। লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে প্রশাসনিক অস্থিরতা চলাকালীন সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়ার ঘোষণা করেছে তারা। স্টারলিঙ্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার বাসিন্দারা উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা একদম নিখরচায় ব্যবহার করতে পারবেন। এই কঠিন সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থার দাবি। এক্স হ্যান্ডলে স্টারলিঙ্কের এই ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়ে মাস্ক লিখেছেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের পাশে আছি।’
এই ইন্টারনেট পরিষেবার ঘোষণার সময়টি ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সেনাবাহিনীর এক ঝটিকা অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলা কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হাতকড়া পরা অবস্থায় মাদুরোকে নিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এজেন্টরা। সেই ভিডিওতে মাদুরোকে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে সাংবাদিকদের ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ও ‘গুড নাইট’ বলতেও শোনা গিয়েছে।
মাদুরো গ্রেফতার হওয়ার পর দেশে যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, নিকোলাস মাদুরো বর্তমানে বাস্তব ও সাময়িকভাবে তাঁর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অক্ষম। এই পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে জারি করা আদালতের এই নির্দেশের ফলে প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। একদিকে মার্কিন হস্তক্ষেপে প্রেসিডেন্ট বদল, অন্যদিকে ইলন মাস্কের সংস্থার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ইন্টারনেট পরিষেবা— সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলা এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্টারলিঙ্কের এই পদক্ষেপকে অনেকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন, কারণ তথ্যের অবাধ আদান-প্রদান বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।