চিত্রঃ সংগৃহীত
AK Bangla 24×7 Digital: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ফের কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিসকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর গোলটেবিল বৈঠকে সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার আহ্বান জানান তিনি। নাম না করে পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসবাদে মদতদাতাদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, জঙ্গিবাদকে কোনও দেশের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যায় না।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ এসসিও-র একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী বলেন, সন্ত্রাসবাদের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সমস্ত দেশকে এক সুরে কথা বলতে হবে। এই ধরনের গুরুতর ইস্যুতে কোনও রকম দ্বিচারিতা বা দ্বৈত নীতির জায়গা নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া দেশগুলির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যে দেশগুলি নিজেদের নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে এবং জঙ্গিদের আশ্রয় ও সমর্থন দেয়, তাদের স্পষ্ট করে জানাতে হবে যে সন্ত্রাসবাদ কখনও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না। এই ধরনের জঙ্গি পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলকে একযোগে পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি।
এসসিও-র গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শভকত মির্জিয়োয়েভ এবং তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনের নিয়ম মেনে বৈঠকের আগে সমস্ত রাষ্ট্রপ্রধান একসঙ্গে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলেন। সেই পর্বেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময় করতে দেখা যায় মোদীকে।
দুই দিনের এই সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। তবে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই খবর।
এসসিও-র ২৬তম লিডারশিপ সামিটে সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি অংশীদার ও পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রগুলিও অংশ নিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা চলছে। এই আবহেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।