চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: কল্পনা করুন, আপনি মাটির থেকে হাজার হাজার ফুট উঁচুতে প্রকৃতির আনন্দ উপভোগ করছেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তে একটি উড়ন্ত বিমান এসে আপনার প্যারাগ্লাইডারের ওপর আছড়ে পড়ল! ভাবলেই বুক কেঁপে ওঠে তো? ঠিক এমনটাই ঘটেছে অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতমালার ওপর। উত্তর অস্ট্রিয়ার জনপ্রিয় প্যারাগ্লাইডিং স্পট ‘স্মিটেনহোহে’ (Schmittenhohe) পাহাড়ের কাছে শনিবার বিকেলে ঘটে গেল এক অলৌকিক ঘটনা। মাঝআকাশে একটি ছোট পর্যটন বিমানের (Sightseeing Plane) সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হল এক মহিলা প্যারাগ্লাইডারের। কিন্তু মৃত্যুর একেবারে মুখ থেকে যেভাবে তিনি ফিরে এলেন, তা দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছে গোটা বিশ্ব।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী অভিজ্ঞ প্যারাগ্লাইডার সাবরিনা তাঁর ক্যামেরায় ওড়ার মুহূর্তটি রেকর্ড করছিলেন। ঠিক সেই সময়ই মাত্র কয়েক ফুটের ব্যবধানে একটি ছোট বিমান তাঁর ক্যানোপি বা প্যারাসুটের কাপড়ের মাঝখান দিয়ে তীব্র গতিতে বেরিয়ে যায়। বিমানের প্রপেলারের ধাক্কায় মুহূর্তে সাবরিনার মূল প্যারাসুটটি মাঝখান থেকে দুই টুকরো হয়ে ছিঁড়ে যায়। ফার্স্ট-পারসন ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্যারাসুট নষ্ট হতেই সাবরিনা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীব্র গতিতে লাটিমের মতো ঘুরতে ঘুরতে (Spiralling) নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছেন এবং আতঙ্কে চিৎকার করছেন।
ঠিক যখন মনে হচ্ছিল মৃত্যু অনিবার্য, তখনই দেবদূতের মতো কাজ করল সাবরিনার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। তীব্র গতিতে নিচে পড়তে পড়তেই তিনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তাঁর জরুরি আপদকালীন প্যারাসুট বা ‘রিজার্ভ প্যারাশুট’ (Emergency Chute) ব্যাগ থেকে বের করে বাতাসে ছুড়ে দিতে সক্ষম হন। আর তাতেই গতি কমে আসে এবং তিনি আল্পসের কোলে অলৌকিকভাবে নিরাপদে ল্যান্ড করেন। স্যালজবার্গ স্টেট পুলিশ দ্রুত হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।
🇦🇹 A paraglider collided midair with a Cessna 172 over Austria and somehow survived.
She deployed her emergency parachute seconds after impact and landed safely.
The plane pilot also managed to land safely at Zell am See Airport.pic.twitter.com/6IH7sTi3Ic
— Mario Nawfal (@MarioNawfal) May 24, 2026
হাস্যকর ও আশ্চর্যজনকভাবে, এই ভয়ানক সংঘর্ষের পরেও সাবরিনা এবং ২৮ বছর বয়সী ওই বিমানের পাইলট, উভয়েই বড় কোনও আঘাত ছাড়াই বেঁচে গিয়েছেন। জেল আম সি (Zell am See) বিমানবন্দরে অবতরণের পর পাইলট পুলিশকে জানান, মাঝআকাশে হঠাত সামনে চলে আসায় প্যারাগ্লাইডারটিকে কোনোভাবেই এড়ানো সম্ভব ছিল না।
পরে সাবরিনা নিজে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে জার্মান ভাষায় লেখেন, “আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি এখানে বসে টাইপ করছি। সামান্য কিছু চোট আর কালশিটে ছাড়া আমার আর কিচ্ছু হয়নি।” বর্তমানে এই ভয়ানক দুর্ঘটনার ভিডিওটি সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যা আকাশপথে যৌথ যাতায়াতের ঝুঁকি এবং ইমার্জেন্সি কিটের গুরুত্বকে আরও একবার প্রমাণ করল।