ad
ad

Breaking News

Pakistan Crisis

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ছারখার পাকিস্তান! তেলের খরচ ৩০০ থেকে একলাফে ৮০০ মিলিয়ন ডলার

এই বিশাল ব্যয়ের ফারাকেই কার্যত টালমাটাল হয়ে পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতি

Pakistan Crisis Oil Shock and West Asia War Push Economy

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার নেওয়ায় বেকায়দায় পাকিস্তান। একদিকে ইসলামাবাদ যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও, অন্যদিকে যুদ্ধের সরাসরি অর্থনৈতিক ধাক্কায় নাভিশ্বাস উঠছে তাদেরই। বিশেষ করে তেল আমদানির খরচ হঠাৎ করে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় কার্যত চরম সংকটে পাক অর্থনীতি। সূত্রের খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সেনার হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর আগে পর্যন্ত পাকিস্তানের তেল আমদানিতে খরচ হত প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২,৮৫৫ কোটি টাকা)। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৭০০ কোটি টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের ফারাকেই কার্যত টালমাটাল হয়ে পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতি।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের উপর। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে জ্বালানির দাম প্রায় ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বাজারে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পাক নাগরিকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহণে বাধা তৈরি হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সংকট আরও গভীর হয়েছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের কথাও ভাবছে। তবে তাতেও বাস্তবে সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এদিকে, এমনিতেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত পাকিস্তানের অর্থনীতি নতুন করে আরও চাপে পড়েছে। আর্থিক সংকট সামাল দিতে সৌদি আরব ও কাতারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ধার নেওয়ার পরও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যে ক্রমেই মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই মূল্যবৃদ্ধির চাপে জেরবার সাধারণ মানুষের উপর নতুন কর চাপানোর অভিযোগ উঠেছে শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতির গভীরতা বোঝা গিয়েছিল চলতি বছরের শুরুতে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের এক মন্তব্যে। তিনি বলেন, এখন বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে ঋণও বেড়েছে। ঋণ নিলে মাথা হেঁট হয়ই। আমার আর আসিম মুনিরেরও হয়েছে। ঋণ নেওয়া আমাদের আত্মসম্মানে আঘাত। এর জন্য আমরা অনেক কিছুতেই না বলতে পারি না। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ঋণের বোঝা—তিনের চাপে পাকিস্তান এখন গভীর অর্থনৈতিক সংকটে তলিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।