ad
ad

Breaking News

Pakisthan

‘ভারত আমাকে ভয় পায়’! প্রকাশ্য সমাবেশে পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড সইফুল্লার বিস্ফোরক দাবি

চার্জশিট অনুযায়ী, সাজিদ সইফুল্লা পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-এ-ত্যায়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর প্রধান।

pahalgam-attack-mastermind-saifullah-kasuri

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাকিস্তান সেনা বা সরকারের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও ভিন্নমত রয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এই বিষয়ে সরকারি ভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে তদন্তে উঠে আসা তথ্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

এনআইএ পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটে যাকে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেই সইফুল্লা কাসুরি ওরফে সাজিদ সইফুল্লাকে সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে। তিনি পাকিস্তানের এক স্কুলের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বলে দাবি করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সইফুল্লা জানান, তিনি নিয়মিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আমন্ত্রণ পান।

চার্জশিট অনুযায়ী, সাজিদ সইফুল্লা পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-এ-ত্যায়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর প্রধান। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা আনন্দবাজার ডট কম যাচাই করেনি। ভিডিওটিতে কোনও নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই, তবে সেটি পাকিস্তানের একটি স্কুল অনুষ্ঠানের বলে দাবি করা হয়েছে।

ভিডিওতে সইফুল্লাকে বলতে শোনা যায়, “পাক সেনা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। নিহত পাক সেনাদের জন্য জনাজার নামাজ পড়ানোর জন্যও আমাকে ডাকা হয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে ভারতকে লক্ষ্য করে তিনি দাবি করেন, ভারত তাঁকে ভয় পায়।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে সইফুল্লা বলেন, তার সংগঠন কাশ্মীরের বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবে এবং ‘কাশ্মীর মিশন’ থেকে কখনও পিছিয়ে আসবে না। এর আগেও ভারতের ‘সিঁদুর অভিযান’-এ জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন তিনি। সে সময় হুঁশিয়ারির সুরে বলেছিলেন, “ভারত ভুল করেছে।”

পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে এক সমাবেশে সইফুল্লাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “পহেলগাঁও হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আমাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন গোটা বিশ্ব আমার নাম জানে।” এনআইএ চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, তিনি পাকিস্তানের কাসুর জেলার বাসিন্দা।

এনআইএ জানিয়েছে, সইফুল্লার মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে। তাকে ধরতে সহায়তা করলে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে তাঁকে নিষিদ্ধ জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, পহেলগাঁও হামলার তদন্তের সময় আগেই জানা গিয়েছিল যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সইফুল্লার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। হামলার প্রায় দুই মাস আগে তাকে পাকিস্তানের পঞ্জাবের কাঙ্গলপুর এলাকায় দেখা গিয়েছিল। এবার প্রকাশ্যে পাকিস্তান সেনার কাছ থেকে আমন্ত্রণ পাওয়ার দাবি করে তার সেই যোগাযোগের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে সামনে এল।