ad
ad

Breaking News

‘মুসলিম ন্যাটো’র মহাআড়ম্বর! পর্দার আড়ালে আসলে নতুন কোন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ?

তবে মহাআড়ম্বরে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল একে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেই মনে করছে।

muslim-nato-formed-saudi-arabia-turkey-and-pakistan-sign-pact

চিত্রঃ সংগৃহীত

AK Bangla 24×7 Digital: ইউরোপের ন্যাটোর আদলে মক্কায় আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল এক নতুন সামরিক জোট। সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই সামরিক বোঝাপড়াকে আন্তর্জাতিক মহল ইতিমধ্যেই ‘মুসলিম ন্যাটো’ নামে অভিহিত করতে শুরু করেছে। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির মুখে পড়লে তা জোটভুক্ত বাকি দু’টি দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে এবং তারা একজোট হয়ে প্রতিহত করবে।

তবে মহাআড়ম্বরে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহল একে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেই মনে করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক সামরিক উত্তেজনার মুখে পড়ে মার্কিন সুরক্ষাকবচের ওপর নির্ভরতা কমাতেই রিয়াধ মূলত ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এবং পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ওআইসি (OIC)-র সদস্য দেশগুলির ভূরাজনৈতিক জটিলতা এ ক্ষেত্রে বড় বাধা। চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে গেলে ইরান কিংবা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হবে অন্য সদস্য দেশগুলিকে, যা সামগ্রিকভাবে ইসলামিক দেশগুলির ঐক্য বিনাশের কারণ হতে পারে।

তেহরান ইতোমধ্যেই একে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাত তৈরি হলেও সৌদি বা তুরস্ক সেনা পাঠানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপে যাবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ড্রোন বা সামরিক সরঞ্জামের মতো ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ আদান-প্রদান অব্যাহত থাকতে পারে। সামগ্রিকভাবে রূপকথার ন্যাটোর ছাঁচে ফেলা হলেও বাস্তবতার জমিতে দাঁড়িয়ে এই জোটকে কেবলই প্রতিরক্ষামূলক মহড়া বলেই গণনায় রাখছে কূটনৈতিক মহল।