চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত একবারও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি দেশের বর্তমান সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেইকে। মাঝেমধ্যে তাঁর নামে কিছু বিবৃতি প্রচারিত হলেও, তা সরাসরি তাঁর মুখ থেকে শোনা যায়নি—টেলিভিশনে সেগুলি পড়ে শোনানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। একাধিক সংবাদমাধ্যম ও গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টের দাবি, মোজতবা খামেনেই গুরুতর অসুস্থ এবং বর্তমানে তিনি কোম শহরে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিনি এখন এতটাই অসুস্থ যে কোনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থায় নেই। যদিও ইরান সরকার এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। একইভাবে ওয়াশিংটন বা তেল আভিভ থেকেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি স্তরে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত কোন ধর্মীয় শহরে মোজতবা চিকিৎসাধীন, সেই তথ্য আমেরিকা ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে বহুদিন ধরেই রয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় কিছু বন্ধুদেশকে জানানো হয়েছে। তবে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনতে চায়নি সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষ।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে হামলা চালায়। সেই হামলাতেই আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এরপরই তেহরান তাঁর পুত্র মোজতবাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। যদিও তার পর থেকেই মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রথমদিকে জানা গিয়েছিল, ওই হামলায় মোজতবা সামান্য পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন। কিন্তু নতুন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি জ্ঞানহীন। হামলার সময় গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন বলে জল্পনা।
শুধু তাই নয়, একাধিক রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছিল, ওই হামলায় মোজতবার স্ত্রী ও পুত্রেরও মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই সংক্রান্ত কোনও তথ্যপ্রমাণ বা সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি। ইরান কিছু ছবি প্রকাশ্যে আনলেও, তা সাম্প্রতিক না পুরনো—সে বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।এদিকে, সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, কোম শহরেই প্রয়াত আলি খামেনেইয়ের দেহ শায়িত রাখার প্রস্তুতি চলছে। সেখানে একটি বড় সমাধি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। খামেনেইয়ের কবরের পাশে একাধিক দেহ সমাধিস্থ করার ব্যবস্থাও থাকবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও সেখানে সমাধিস্থ করা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে আমেরিকার কড়া হুঁশিয়ারির জেরে। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু-সহ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হতে পারে। ইতিমধ্যেই যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলেও খবর। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান না হলে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও উঠে এসেছে আলোচনায়। এই টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।