চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপে ছিলেন মার্কিন ধনকুবের তথা এক্স প্ল্যাটফর্মের মালিক ইলন মাস্ক। তবে মাস্ক কেন ওই ফোনালাপে ছিলেন, কীভাবে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হল এবং তিনি আদৌ কোনও মন্তব্য করেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের মারফত জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ট্রাম্প ফোন করেন মোদিকে।
যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল দুই রাষ্ট্রনেতার প্রথম সরাসরি কথোপকথন। এই ফোনালাপের কথা সমাজমাধ্যমে নিজেই জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।তিনি লেখেন, ফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে এবং ভারত উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে। একইসঙ্গে অবিলম্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ফোনালাপে হরমুজ প্রণালী নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয় বলে জানান মোদি। এই জলপথকে নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সকলের ব্যবহারযোগ্য করে তোলার বিষয়ে দুই রাষ্ট্রনেতাই একমত হন। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার কথাও উঠে আসে আলোচনায়। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মাস্কের উপস্থিতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি হোয়াইট হাউস বা নয়াদিল্লি—কোনও পক্ষই।
তবে বিভিন্ন সংবাদপত্র মারফত জানা গিয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু’জন উচ্চপদস্থ মার্কিন আধিকারিক তাদের জানিয়েছেন, মাস্ক সত্যিই ওই ফোনালাপে ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্কের মধ্যে সম্প্রতি যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই হয়তো রাষ্ট্রনেতাদের ফোনালাপে মাস্কের ‘প্রবেশ’ সম্ভব হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ফোনালাপে তৃতীয় কোনও ব্যক্তির উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিশেষত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ধরনের আলোচনায় জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বহু সংবেদনশীল বিষয় উঠে আসতে পারে। সাধারণত সেই কারণেই হোয়াইট হাউস এমন ফোনালাপে বাইরের কাউকে থাকার অনুমতি দেয় না। ফলে মাস্কের উপস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।