চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা ফের নতুন করে বেজে উঠেছে। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সোমবার পাকিস্তানে আমেরিকার সঙ্গে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে তারা আর অংশ নেবে না। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে চলা দুই সপ্তাহের অস্থায়ী সংঘর্ষবিরতি, যা মঙ্গলবার শেষ হতে চলেছে, তা আর পুনর্নবীকরণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ওমান সাগরে ইতিমধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে; ইরানি জাহাজ লক্ষ্য করে মার্কিন নৌসেনার হামলা এবং তেহরানের পাল্টা ড্রোন হানায় স্পষ্ট যে, পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনার নামে স্ববিরোধী ও অযৌক্তিক দাবি তুলছে এবং ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি রেখে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ দেড় মাসের যুদ্ধে ইরানের সুপ্রিম লিডারসহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আমূল বদলে দিয়েছে। গত ৭ এপ্রিল দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের ম্যারাথন বৈঠক ছিল নিস্ফলা। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো দ্বিতীয়বার আলোচনার টেবিলে দু-পক্ষকে আনার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে ইরানের সরে দাঁড়ানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল।
বর্তমানে ওমান সাগরে মার্কিন নৌসেনার হাতে ইরানের একটি জাহাজ দখল হওয়া এবং তেহরানের ড্রোন হামলার ঘটনাকে বিশ্লেষকরা নতুন করে বড় কোনো সংঘাতের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য আবার এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের সাক্ষী হতে চলেছে কি না, তা নিয়ে গোটা বিশ্বে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রণক্ষেত্রেই এখন ফয়সালা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।