চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: নেপালের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বলেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। শনিবার ভোরে ভক্তপুর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। ওলির পাশাপাশি নেপালি কংগ্রেসের নেতা তথা প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার ভোরে ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকা থেকে কেপি শর্মা ওলি এবং সূর্যবিনায়ক এলাকা থেকে রমেশ লেখাককে গ্রেপ্তার করা হয়। কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যা মামলার তদন্ত চলছে এবং সেই প্রেক্ষিতেই এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
এই গ্রেপ্তারি মূলত গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নেপাল জুড়ে চলা ‘জেন-জি’ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। সেই সময় গণবিক্ষোভের প্রথম দিনেই ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কাঠমান্ডু-সহ বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া হিংসায় মৃতের সংখ্যা ৭০ ছাড়িয়ে যায়। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন কেপি শর্মা ওলি। বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। নেপালের বিশেষ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি গৌরি বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশন ওলি, রমেশ লেখাক এবং তৎকালীন আইজি চন্দ্র কুবের খাপুংয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সুপারিশ করেছিল। দোষী সাব্যস্ত হলে এই মামলায় তাঁদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
নেপালের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদন গুরুং এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই গ্রেপ্তার কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি প্রক্রিয়া মাত্র। তিনি লেখেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং জেন-জি বিক্ষোভের সময় হওয়া হিংসার সুবিচার করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এটি তারই সূচনা।
বর্তমানে কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আধিকারিক ও নেতাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এই ঘটনায় নেপালের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।