চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk:তাইওয়ান প্রশ্নে চিনের সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়তেই কৌশল বদলাতে শুরু করেছে জাপান। সরাসরি মুখোমুখি না গিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্ত ভিত গড়ার পথে হাঁটছে টোকিয়ো। সেই লক্ষ্যেই ফিলিপিন্সের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করল জাপান। ম্যানিলায় স্বাক্ষরিত ‘অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (এসিএসএ)’ অনুযায়ী, দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে। যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে গোলাবারুদ, জ্বালানি, খাদ্য, প্রতিরক্ষা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিনিময়ের পথও খুলে গেল—তা-ও কর ছাড়াই।
চুক্তির পর দুই দেশের বিদেশমন্ত্রকের যৌথ বার্তা স্পষ্ট—‘সংকটের সময় একে অপরকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না।’ দক্ষিণ চিন সাগর ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চিনের সঙ্গে ফিলিপিন্সের সংঘাত চলছে। স্কারবোরো শোল ও সেকেন্ড থমাস শোল এলাকায় চিনা নৌবাহিনীর আগ্রাসী উপস্থিতি বারবার উত্তেজনা বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানকে ঘিরেও বেজিংয়ের তৎপরতা টোকিয়োর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার নেতৃত্বে গঠিত সামরিক জোট ‘স্কোয়াড’-এ জাপান ও ফিলিপিন্সের একসঙ্গে থাকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দক্ষিণ চিন সাগর দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাণিজ্য পরিবহণ হয়। এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ মানেই বিশ্ব বাণিজ্যের উপর প্রভাব। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, চিন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, জাপান নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না। সেই মন্তব্যের পাল্টা কড়া সামরিক হুঁশিয়ারি দেয় বেজিং। পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক স্তরে হস্তক্ষেপ করতে হয় আমেরিকাকেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিলিপিন্সের সঙ্গে এই চুক্তি শুধুমাত্র দুই দেশের সম্পর্ক মজবুত করল না, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিনা আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তাও দিয়ে দিল জাপান।