ad
ad

Breaking News

Indian Mango

জাপানে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতের আমের, মাথায় হাত ল্যাংড়া-আলফানসো চাষিদের!

ভারতের আম আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাপান, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

Japan Bans Indian Mango Import

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: তীব্র দাবদাহে পুড়ছে বাংলা-সহ গোটা দেশ। এই চড়া রোদে আমজনতার একমাত্র স্বস্তির জায়গা হলো ফলের রাজা আম। কিন্তু সুস্বাদু এই আমের মধ্যেই কি লুকিয়ে রয়েছে বড় কোনও বিপদ? সম্প্রতি জাপানের প্রশাসনিক মহলের একটি চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ভারতের আমের গুণগত মান ও জীবাণু নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটি থেকে আম আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে জাপান সরকার। ফলে বিশ্ববাজারে ভারতীয় আমের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তেমনই প্রশ্ন উঠছে, বিদেশ যে আমকে ‘বাতিল’ করল, সেই আমই কি প্রতিদিন খাচ্ছেন এ দেশের মানুষ?

নজরদারিতে গলদ! কেন চটল জাপান প্রশাসন?

সাধারণত আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে ভারত থেকে জাপানে আম রপ্তানি করার আগে সেগুলিকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা হয়। ভারতের মাটিতেই ‘ভেপর হিট ট্রিটমেন্ট’ (Vapor Heat Treatment) বা বাষ্পীয় তাপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমের ভেতরে থাকা ক্ষতিকারক পোকা এবং তাদের লার্ভা ধ্বংস করা হয়। জাপানের কৃষিক্ষেত্রে এই ধরণের পোকা মারাত্মক ক্ষতি ছড়াতে পারে, তাই টোকিও প্রশাসন এই কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়ায় চরম কড়াকড়ি বজায় রাখে। কিন্তু সম্প্রতি জাপানি পরিদর্শকদের দাবি, ভারতের ল্যাবগুলিতে আম জীবাণুমুক্ত করার কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে না। আমের ভেতরে এখনও ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি মিলছে। আর এই সুরক্ষার গাফিলতির জেরেই আমদানিতে জারি হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা।

২.৮ কোটি মেট্রিক টনের ধাক্কা, ব্যাপক ক্ষতির মুখে আলফানসো

রফতানি বন্ধের এই ধাক্কায় ভারতীয় কৃষকদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২.৮ কোটি মেট্রিক টন আম ভারতে উৎপাদিত হয়ে বিশ্ববাজারে যায়। জাপানের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের আম ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কয়েকশো কোটি টাকার ক্ষতি হতে চলেছে। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘আলফানসো’ আমের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি মার খাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কিছু কিছু রফতানি কেন্দ্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯০ শতাংশ ছুঁয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় রফতানিযোগ্য আম বিদেশের বাজারে না গিয়ে দেশীয় বাজারে চলে আসায় আমের দাম একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সাধারণ মানুষের কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে?

বিদেশের বাজারে ভারতীয় আম বাতিল হতেই আমজনতার মনে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে কি দেশীয় বাজারে বিক্রি হওয়া আমেও পোকা ও লার্ভা থেকে যাচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরের কোয়ারেন্টাইন নিয়ম অত্যন্ত কড়া হলেও, ভারতে উৎপাদিত আমের সবটাই বিষাক্ত নয়। তবে আমের ভেতরে থাকা ফলের মাছি বা পোকার লার্ভা অসাবধানতাবশত পেটে চলে গেলে কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে পেট ব্যথা, বমি ভাব, ডায়রিয়া কিংবা ত্বকে অ্যালার্জির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এতে বড় কোনও প্রাণনাশের ঝুঁকি নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শ, বাজার থেকে আম কিনে ভাল করে ধুয়ে এবং কেটে পরীক্ষা করে খেলে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।