চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এবার এক ভয়াবহ মোড় নিল। আমেরিকার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাত ৮টার পর ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলিতে হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাঝেই এবার বড় পদক্ষেপ করল ইসরায়েল। আইডিএফ (IDF)-এর পক্ষ থেকে ইরানের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে এক জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন স্থানীয় সময় রাত ৯টা (ভারতীয় সময় রাত ১১টা) পর্যন্ত দেশজুড়ে কোনো ট্রেনে ভ্রমণ না করেন। ইজরায়েলি সেনার দাবি, নিরাপত্তার খাতিরেই এই সতর্কতা, কারণ ওই সময়ে রেললাইন বা ট্রেনের আশেপাশে থাকা নাগরিকদের জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এমনকি ফারসি ভাষায় গ্রাফিক্স শেয়ার করে এই ‘জরুরি সতর্কতা’ প্রচার করছে ইসরায়েল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুদ্ধকে ‘ছোট্ট লড়াই’ বলে শুরু করেছিলেন, তা এক মাস পেরিয়ে এখন এক ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়েছে। গত রবিবার ইসরায়েলের একটি ড্রোন কারখানায় ইরানের বিধ্বংসী ড্রোন হামলার পর থেকেই পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তেল আভিভ। ওই ড্রোন নির্মাতা সংস্থার সিইও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ইরানের হামলায় তাঁদের কারখানাটি পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। এরই প্রতিশোধ হিসেবে এবার সরাসরি ইরানের রেলপথকে লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিল ইসরায়েল। নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়, বরং সমগ্র ইরানের রেলপথ জুড়েই এই হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, মোজতবা বর্তমানে কোম শহরের একটি হাসপাতালে অচৈতন্য অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। এমনকি রিপোর্টের দাবি অনুযায়ী, তাঁর প্রয়াণ একপ্রকার নিশ্চিত ধরে নিয়ে শেষকৃত্যের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও তেহরান এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। যুদ্ধ আর নেতৃত্বসংকটের এই জোড়া ফলা এখন ইরানকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।