ad
ad

Breaking News

Islamabad

ইসলামাবাদে বিস্ফোরণ, শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার দায় নিল আইএসপিপি

সংগঠনটি এই হামলাকে তাদের তথাকথিত ‘ধর্মীয় শত্রুদের’ বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।

islamabad-mosque-blast-ispp-claim

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: শুক্রবার জুম্মার নামাজ চলাকালীন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট পাকিস্তান প্রভিন্স (ISPP)। তাদের সরকারি প্রচারমাধ্যম আমাক নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে হামলাকারীর নাম জানানো হয়েছে—সইফুল্লা আনসারি। এ ঘটনায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ১০০ ছুঁতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্ত চালাচ্ছে। 

আইএসপিপি দাবি করেছে, ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদকে লক্ষ্য করে সইফুল্লা আনসারি আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটি এই হামলাকে তাদের তথাকথিত ‘ধর্মীয় শত্রুদের’ বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে পাক প্রশাসন এখনো পর্যন্ত হামলাকারীর পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করেনি। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বলছে, হামলার ধরন ইসলামিক স্টেট-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর পরিচিত কৌশলের সঙ্গে মিলছে। আত্মঘাতী পোশাকের ব্যবহার এবং শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্য করা—এসব ইঙ্গিত জঙ্গি সংগঠনের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ঘটনার ফলে পাকিস্তানের শহরাঞ্চলে জঙ্গি হুমকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হামলার পর থেকে ইসলামাবাদে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

ইসলামিক স্টেট পাকিস্তান প্রভিন্স (ISPP) হল ইসলামিক স্টেটের পাকিস্তান শাখা। ২০১৯ সালের মে মাসে আমাক নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এই গোষ্ঠী। ইসলামিক স্টেট–খোরাসান (ISKP) গোষ্ঠী থেকে বিভাজনের পর ISPP গঠন হয়। বিভাজনের পর ISKP প্রধানত খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে সক্রিয় থাকলেও, ISPP ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।

ISPP-এর কার্যক্রম মূলত পাকিস্তানের পাঞ্জাব, বালুচিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সিস্তান ও বালুচেস্তান প্রদেশেও তাদের ঘাঁটির খবর পাওয়া যায়। তারা একাধিকবার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে খুন ও বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠন গঠনের পরের সময়েই মাস্তাং ও কোয়েটায় হামলার দায় তারা নিয়েছিল।

শিয়া হাজারা শরণার্থীদের উপর হামলার সঙ্গে ISPP-এর নাম জড়ানোর খবরও আছে, যা তাদের ধর্মীয় শত্রুতার প্রকৃতি প্রকাশ করে। প্রাথমিক পর্যায়ের হামলার পর পাক পাঞ্জাব সরকার এই সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর সন্ত্রাসদমন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় জঙ্গি সংগঠনের তুলনায় ISPP-এর স্বাধীন কাঠামো তাদের শনাক্ত করা আরও কঠিন করে তুলেছে।

জঙ্গি কার্যক্রমের ইতিহাস ও সাম্প্রতিক হামলা দেখে জানা যায়, ২০২৪ সালে সিবি শহরের বোমা হামলা এবং বালুচিস্তানের একাধিক বিস্ফোরণের দায় ISPP স্বীকার করেছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মীদের বহনকারী একটি বাসে হামলার দায়ও তারা তুলে। সেই হামলায় তিন সেনা নিহত ও প্রায় কুড়ি জন আহত হয়। ওই ঘটনাকে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়েছিল।

ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণও ISPP-এর ধারাবাহিক কৌশলের অংশ বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন। তারা জানান, সংগঠনটি সম্প্রতি বেশি করে আত্মঘাতী হামলা চালাচ্ছে, যাতে দেশের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক প্রচার দুটোই বাড়ে। তাদের প্রচার বার্তায় প্রায়ই সাম্প্রদায়িক এবং ভূ-রাজনৈতিক শত্রুতার কথা তুলে ধরা হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনী গোটা দেশে গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযান জোরদার করেছে। প্রশাসনের দাবি, প্রদেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে সম্ভাব্য পরবর্তী হামলা ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের যোগাযোগ ও প্রভাবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ISPP-এর দায় স্বীকার নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—কীভাবে ইসলামাবাদের মতো কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় হামলা চালাতে পারল জঙ্গিরা। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বড় শহরগুলোতে ঘুমন্ত জঙ্গি কোষ সক্রিয় থাকলে সাম্প্রদায়িক হিংসা আরও বাড়তে পারে। এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন গোটা অঞ্চলে নানা জঙ্গি নেটওয়ার্কের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তুঙ্গে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছে এবং জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলবে। ISPP-এর দেওয়া সাইফুল্লাহ আনসারির নামকে আপাতত তাদের প্রচার কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে সরকার। ফরেনসিক ও গোয়েন্দা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই তথ্যকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে মানতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।