চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে পারে আমেরিকা, এমন সম্ভাবনা জোরালো হতেই পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলো তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ রবিবার পার্লামেন্টে বলেন, যদি আমেরিকা হামলা চালায়, তার ফল ভুগতে হবে ইজরায়েলকে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আমেরিকার যে কোনও আক্রমণের জবাবে ইরান মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে আঘাত করতে প্রস্তুত। কালিবাফের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আমেরিকার হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দেশ কঠোর অবস্থানে থাকবে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই তার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ না করার আবেদন জানাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যে প্রয়োজন হলে আমেরিকা ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। ট্রাম্প দেশের বিক্ষোভকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং জানিয়েছে, যদি বিক্ষোভ দমন বা হত্যাকাণ্ড হয়, তাতে আমেরিকা নীরব থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ইরান ‘স্বাধীনতার পথে এগোচ্ছে’ এবং আমেরিকা সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। কোন ঘাঁটি লক্ষ্য করা হবে, আকাশপথে হামলা কেমন হবে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে। এ ধরনের সম্ভাব্য আক্রমণের খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরান তৎপর হয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের বিপরীত প্রান্তে, ইজরায়েলে ‘উচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। শনিবার, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। স্পিকার কালিবাফের বক্তব্য প্রমাণ করছে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার হুমকি অমূলক নয়।
দেশের অভ্যন্তরেও পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। ইরানে কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হলেও তা দ্রুত ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সামগ্রিক প্রতিবাদের রূপ নেয়। আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। প্রশাসন বিক্ষোভ দমন করার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ শনিবার জানান, বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে, এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। ইন্টারনেট পরিষেবা দু’দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় শতাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে।