চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আরব দুনিয়ার চলমান সংঘাত এবার নতুন মোড় নিল ইরানের পাল্টা আঘাতে। প্রায় দু’দশকের মধ্যে এই প্রথমবার ইরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ঘটনা সামনে এল। ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলায় দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে খবর, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, একটি যুদ্ধবিমানে হামলার পর এক সেনা জওয়ানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে অপর সেনার এখনও খোঁজ মেলেনি। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, তাদের হামলায় আরও একটি মার্কিন বিমানও ধ্বংস হয়েছে।
এই ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়, যখন মাত্র পাঁচ সপ্তাহ আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় আঘাত হানা হয়েছিল। সেই সময় মার্কিন নেতৃত্ব দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই পাল্টা হামলা দেখিয়ে দিল, ইরান এখনও প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন মার্কিন বাহিনী মূলত এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে, যাদের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না। ফলে মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ঘটনা বিরল হয়ে উঠেছিল। এই ঘটনা শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে যুদ্ধ চালানোর অভিজ্ঞতায় অভ্যস্ত মার্কিন সমাজে এই ধরনের ক্ষতি সহজে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে ওয়াশিংটনের উপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়তে পারে।
ইতিহাস বলছে, শেষবার ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই তুলনায় বর্তমান ঘটনা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি সরাসরি দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে ঘটেছে। এদিকে উদ্ধার অভিযানে নামা মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। শত্রু অঞ্চলে ঢুকে বিপদের মুখে উদ্ধারকাজ চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সেনাকর্মীরা সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। সামরিক মহলে এই উদ্ধার অভিযান প্রশংসিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই পাল্টা আঘাত প্রমাণ করে দিয়েছে যে দীর্ঘদিনের চাপ ও হামলার পরেও তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং সুযোগ পেলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর ক্ষমতা এখনও তাদের রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।