চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইরান, তবে সেই আলোচনা হতে হবে ন্যায্য ও নিরপেক্ষ—এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার আবহে ইরানের এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্ক আবারও তলানিতে ঠেকেছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামনেইয়ের বিরুদ্ধে চলা গণবিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পর থেকেই ইরানের উপর চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকা। এমনকি ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করায় ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
মঙ্গলবার ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ ইংরেজি ও ফারসি—দু’টি ভাষাতেই একটি পোস্ট করেন পেজেশকিয়ান। সেখানে তিনি জানান, ট্রাম্পের তরফে আলোচনার প্রস্তাব এবং পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি বন্ধুরাষ্ট্রের অনুরোধের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “যদি আলোচনা ন্যায্য ও পক্ষপাতহীন হয়, তবে সেই পথে এগোনো যেতে পারে বলে আমি বিদেশমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি।”
তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যেকোনও আলোচনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকা আবশ্যক। পেজেশকিয়ান লিখেছেন, এমন পরিস্থিতি চাই যেখানে কোনও ধরনের হুমকি থাকবে না, অযৌক্তিক প্রত্যাশা চাপানো হবে না। পারস্পরিক সম্মান, বিচক্ষণতা এবং নীতির ভিত্তিতেই আলোচনা হতে হবে—এটাই ইরানের অবস্থান।
এর আগে রবিবার আয়াতোল্লা খামনেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের উপর হামলা হলে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে। সেই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে খামনেইয়ের বক্তব্য তাঁর কাছে প্রত্যাশিতই। তবে একই সঙ্গে তিনি আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছনো সম্ভব হবে। যদিও ট্রাম্প এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যদি কোনও চুক্তি না হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত রয়েছে আমেরিকা।