চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মধ্যপ্রাচ্যে ফের অশান্তির কালো মেঘ ঘনিয়েছে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা সামরিক অভিযানে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা অঞ্চল। এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রবিবার রাতে ইরান ইজরায়েলের বিভিন্ন অংশ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রতিবাদেই এই হামলা বলে দাবি তেহরানের। চলতি বছরের সংঘর্ষবিরতির পর এই প্রথম সরাসরি প্রত্যাঘাত করল ইরান। এর পরেই সোমবার সকালে পাল্টা আঘাত হানে ইজরায়েলি বাহিনী। ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ফের অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানকে ঘিরে আমেরিকার অবস্থান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর হাতেই থাকে এবং সেই সিদ্ধান্তই মেনে চলতে হয় ইজরায়েলকে। ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই প্রশ্নে নেতানিয়াহুর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, তিনি চান না বর্তমান সংঘাত ইরানের সঙ্গে চলতে থাকা কূটনৈতিক আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াক। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। সেই কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠুক, তা চান না ট্রাম্প। সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখার পক্ষেই তিনি সওয়াল করেছেন।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্পের বক্তব্য সামনে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানে পাল্টা হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে। ফলে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বার্তা এবং ময়দানের সামরিক পদক্ষেপের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের বর্তমান অধ্যায়ে আমেরিকার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধুমাত্র দুই দেশের সামরিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার এবং কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ। ফলে ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার প্রতিটি পদক্ষেপ এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। ট্রাম্প আশাবাদী হলেও পরিস্থিতি যে এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তা স্পষ্ট। কারণ সংঘাতের আগুন যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তবে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার উপরও পড়তে পারে।