চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতির মাঝে যুদ্ধবিরতি নিয়ে তৈরি হল নতুন করে জটিলতা। আমেরিকাকে প্রস্তাবের পাল্টা শর্ত দিয়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়াল ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী হলেও তার জন্য আমেরিকাকে মানতে হবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ইরানের তরফে মূলত দুটি বড় দাবি সামনে এসেছে— মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ দিতে হবে। পাশাপাশি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। সূত্রের খবর, এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লা-র বিরুদ্ধে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিও তুলেছে ইরান। এছাড়াও, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের উপর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়ে একটি নতুন পরিকাঠামো গড়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে তেহরান, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই শর্তগুলি মানা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ফলে সেগুলি বন্ধ করার সম্ভাবনা কার্যত কম।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ১৫ দফা শর্ত দিয়েছে আমেরিকাও। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— হরমুজ প্রণালীতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তেহরান যুদ্ধবিরতির জন্য আগ্রহী। সূত্রের খবর, ইরানও কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে। পাঁচ বছরের জন্য ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে শর্ত ও পাল্টা শর্তের জটিলতায় আপাতত অনিশ্চয়তায় ঘেরা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। কবে এবং কীভাবে দু’পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।