Bangla Jago Desk: ইরান এবার সংঘর্ষ থামানোর জন্য তিন দফা শর্ত প্রকাশ করেছে। তেহরানের দাবি, এই সংঘর্ষ শুরু করেছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। সংঘর্ষ স্থগিত করতে হলে ইরান চাচ্ছে যে, তাদের ন্যায্য অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে, সংঘর্ষের কারণে হওয়া ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, এবং ভবিষ্যতে ইরানে কোনও আক্রমণ হবে না। তেহরান আশঙ্কা করছে, যদি এখন শর্ত না মানা হয়, তবে ভবিষ্যতে ইজরায়েল আবার তাদের উপর হামলা চালাতে পারে। এই তথ্য ‘ব্লুমবার্গ’-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
ইরান স্পষ্টভাবে চাচ্ছে, আগামী দিনে আমেরিকা বা ইজরায়েলি বাহিনী যেন তাদের উপর আক্রমণ না করতে পারে। সংঘর্ষ বিরতির শর্ত হিসাবে তারা আমেরিকার কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতিই চাইছে। তবে, আমেরিকা তাদের এমন কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে চাইছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে, আমেরিকা কতটা জোর দিতে পারবে ইজ়রায়েলকে এই শর্ত মানাতে, তাও প্রাথমিকভাবে অস্পষ্ট।
বুধবার রাতেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে সংঘর্ষ বিরতির তিন শর্তের কথা পোস্ট করেন। তিনি জানান, সংঘর্ষ থামানোর একমাত্র উপায় হল— ইরানের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং ভবিষ্যতেও আর আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি নেওয়া। পেজ়েশকিয়ানের বার্তার পর ‘ব্লুমবার্গ’ আমেরিকা ও ইজ়রায়েল সরকারের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তবে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের প্রাথমিক সময়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, পরিস্থিতি অন্তত এক মাস চলতে পারে। তবে সাম্প্রতিক মন্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত করতে চায় না। বুধবার তিনি বলেন, “ইরানে যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, “সংঘর্ষ খুব ভালোভাবে চলছে। আমরা সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে আছি এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পেরেছি।”
যদিও গত দেড় সপ্তাহ ধরে সংঘর্ষ চললেও আমেরিকার পক্ষেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ছ’জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে। এছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে আমেরিকার ১৭টি সামরিক ও অসামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। এই অবস্থায় ট্রাম্পের সংঘর্ষ শেষ করার ইঙ্গিত এবং পেজ়েশকিয়ানের তিন দফা শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



