চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রভাব ও তথাকথিত ‘আগ্রাসন’ রুখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি শক্তিশালী সামরিক ও কৌশলগত জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইজরায়েল। মঙ্গলবার ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে জানান যে, অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে তাঁদের এই জোটবদ্ধ হওয়ার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। যদিও তিনি এখনই দেশগুলোর নাম নির্দিষ্ট করে জানাননি, তবে খুব শীঘ্রই এই জোটের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে ইরানের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের দুটি প্রধান শক্তি পরমাণু কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতাকে চরম আঘাতের মাধ্যমে দুর্বল করে দিয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে ইজরায়েলের নিরাপত্তাগত ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত ইরানের সামরিক শক্তির ওপর ইজরায়েলি ও মার্কিন প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ যদি ইরান অবরোধ করে, তবে সেই অবরোধ ভাঙতে আমেরিকাকে সক্রিয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত আবু ধাবি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরশাহি চাইছে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে মিলে একটি বহুপাক্ষিক জোট গঠন করতে, যাতে সমুদ্রপথে পণ্য চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যদি শেষ পর্যন্ত এই সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়, তবে তা হবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন। কারণ, আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা এই দ্বন্দ্বে ইজরায়েল ও পশ্চিমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণ এক নতুন এবং জটিল মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।