চিত্র- সংগৃহীত
AK BANGLA 24×7 Digital DESK: হিমালয়ের কোলে ভারত-ভুটান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এল এক নতুন মোড়। থিম্পুতে অনুষ্ঠিত ভারত-ভুটান পঞ্চম উন্নয়ন সহযোগিতা বৈঠকে স্বাক্ষরিত হলো মোট ১২টি নতুন প্রকল্প এবং ৪,০০০ কোটি টাকার এক মেগা ঋণচুক্তি (‘লাইন অফ ক্রেডিট’ বা LOC)। শুক্রবার ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রির দু’দিনের ভুটান সফরে এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন চুক্তিগুলি সম্পন্ন হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসর নামগিয়াল ওয়াংচুক, প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং বিদেশ ও বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো ডিএন ধুংগিয়েল।
চুক্তির মূল বিষয়সমূহ:
১২টি নতুন প্রকল্প: পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি, নাগরিক পরিষেবা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ১২টি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে ভারত সরকার ৩৩২ কোটি টাকা অর্থসাহায্য করবে।
জ্বালানি খাতে ঋণ: ভুটানে শক্তি ও জ্বালানি প্রকল্পগুলির বিকাশে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাক (Exim Bank) এবং ভুটানের মধ্যে ৪,০০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চিকিৎসা ও গবেষণা ক্ষেত্রে জোর: ভারতের এমস (AIIMS) এবং ভুটানের ‘খেসর গয়ালপো ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’-এর মধ্যে স্বাস্থ্য-গবেষণায় যৌথ সহযোগিতার চুক্তি হয়েছে।
গ্রিন মোবিলিটি উপহার: পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা জোরদার করতে ‘গ্রিন মোবিলিটি’ কর্মসূচির অধীনে ভুটান সরকারকে ৪৫টি বৈদ্যুতিক গাড়ি উপহার দিয়েছে ভারত।
কূটনৈতিক গুরুত্ব:
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হিমালয় কোলের পরম মিত্র ভুটানে চিনের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। ডোকলাম এবং সীমান্ত ঘেঁষা ভূখণ্ডে বেআইনি চিনা গ্রাম নির্মাণের জেরে কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। তার ওপর নেপালের পর থিম্পুও যেন কিছুটা নয়াদিল্লির থেকে দূরে সরছিল।
ঠিক এই আবহে ভারতের এই বিশাল আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ২৭-২৮ জুলাই নিজের চিন সফর শেষ করেই সোজা থিম্পু পৌঁছান বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি। জানা গিয়েছে, ভুটানের ত্রয়োদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কালেই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে এবং ঋণের অর্থ প্রদান করা হবে। কৌশলগতভাবে চিনের আগ্রাসী মনোভাব সামাল দিতেই প্রতিবেশী দেশকে এই বিশাল সহায়তার মাধ্যমে পাশে রাখার বার্তা দিল নয়াদিল্লি।