চিত্র: সংগৃহীত
Truth Of Bengal: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে ভারতের জ্বালানি তেল ও গ্যাস বহনকারী ১৮টি জাহাজ আটকা পড়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই জাহাজগুলোতে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি রয়েছে। যুদ্ধের কারণে এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়ায় ভারতের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
▪️वर्तमान में 18 भारतीय जहाज़, जिनमें 485 नाविक सवार हैं, फारस की खाड़ी में संचालन कर रहे हैं और सभी सुरक्षित हैं। पिछले 24 घंटों में किसी भी प्रकार की समुद्री घटना की सूचना नहीं मिली है।
▪️दो #LPG वाहक जहाज़ BWTYR और BW ELM कुल 94,000 मीट्रिक टन एलपीजी लेकर होर्मुज़ जलडमरूमध्य… pic.twitter.com/H8m7cTutgx
— PIB in Uttar Pradesh (@PibLucknow) March 30, 2026
কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে ১৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে নিরাপদ আশ্রয়ে নোঙর করে আছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, একটি এলএনজি ক্যারিয়ার এবং চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার রয়েছে। এই জাহাজগুলোতে মোট ৪৮৫ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন যারা বর্তমানে সুরক্ষিত আছেন বলে সরকার নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আরও ১০টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজও পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। যুদ্ধের প্রভাবে জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম ০.০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ০.৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে যা আমদানির খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশ এবং অপরিশোধিত তেলের ৪০ শতাংশ এই পথ দিয়েই আমদানি করে। ফলে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত কয়েক দিনে আটটি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে বিডব্লিউ টিওয়াইআর এবং বিডব্লিউ ইএলএম নামের দুটি বড় এলপিজি বাহী জাহাজ যথাক্রমে মুম্বাই ও নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরের উদ্দেশ্যে এগোচ্ছে। ভারত সরকার বর্তমানে তেহরানের সাথে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে দ্রুত ও নিরাপদে বের করে আনা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে এই মুহূর্তে তাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।