চিত্র- নিজস্ব গ্রাফিক্স
AK Bangla Desk: দেশত্যাগের দুই বছর পূর্তির দিনে ভারতের মাটি থেকে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলে দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। হাসিনার এই মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকার বিদেশমন্ত্রক। তাদের দাবি, এই ধরনের অনুষ্ঠান না করার বিষয়ে আগে থেকেই ভারতকে আপত্তি জানানো হয়েছিল, তবুও দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবের সহযোগিতায় তা অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ঢাকার তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে সুসম্পর্ক রাখতে চায়। কিন্তু ‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে বক্তব্য পেশ করার অনুমতি দেওয়া এবং তাঁকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাত্তা না দেওয়ায় পুরো দেশ ক্ষুব্ধ।
তবে ভারতের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেও, হাসিনার বিবৃতির পরপরই বাংলাদেশে শুরু হওয়া নতুন হিংসা নিয়ে অলৌকিক নীরবতা পালন করছে ঢাকা। প্রাক্তন অধিনায়ক তথা আওয়ামী লিগের প্রাক্তন এমপি শাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে বোমা ফেলা ও আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু জাতীয় ক্রিকেট আইকনের বাড়িতে এই ধরনের নজিরবিহীন হামলা কিংবা আওয়ামী লিগ কর্মীদের ওপর চলমান নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক একটি শব্দও খরচ করেনি।
বুধবার দিল্লির এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বাংলাদেশে তারেক রহমানের বর্তমান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে জানান, সেখানে পুলিশি হেফাজতে প্রতিদিন আওয়ামী লিগ কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।
ভারতকে সতর্ক করে জয় বলেন, “আপনাদের পূর্ব সীমান্তে এবার আরও একটি পাকিস্তান তৈরি হতে চলেছে। সেখানে পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং হিজবুত তাহরিরের মতো মৌলবাদী সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে সঠিক শাসনব্যবস্থা না ফিরলে ভারতের নিরাপত্তাও চরম হুমকির মুখে পড়বে।” ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বাংলাদেশের এই বেহাল দশা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার আবেদনও জানান তিনি।