চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলাদেশে ফেরার কথা আগেই জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এবার সেই প্রত্যাবর্তনের সময়সীমাও স্পষ্ট করলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। রবিবার প্রকাশিত এক ইমেল সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পাঁচ বারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানালেন, সমস্ত বাধা ও ষড়যন্ত্র পেরিয়ে চলতি বছরেই তিনি নিজের দেশে ফিরবেন। ২০২৪ সালের অগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই বছর ৫ অগস্ট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন হাসিনা। তারপর থেকেই তিনি ভারতে রয়েছেন। প্রায় দু’বছর পর এবার ফের বাংলাদেশে ফেরার কথা প্রকাশ্যে জানালেন তিনি। কেন দেশে ফিরতে চান, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। হাসিনার দাবি, ব্যক্তিগত কোনও আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে তাঁর ফেরার ইচ্ছা নয়। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার সঙ্গে জড়িত।
বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা চলছে। একটি মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, সেই প্রশ্নের উত্তরে হাসিনা জানান, তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না। ১৯৭৫ সালে বাবা শেখ মুজিবুর রহমান, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সকলকে হারানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত চক্রান্তের পরেও তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছেন। মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়েও মুখ খুলেছেন হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, এটি বিচার নয়, বরং অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত ব্যবস্থার অংশ। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করার জন্য বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতির মধ্যেও আওয়ামী লীগ ফের জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে বলে দাবি করেন হাসিনা। তাঁর কথায়, আওয়ামী লীগ কোনও কাগুজে সংগঠন নয়। বহুবার এই দলকে আঘাত করা হয়েছে, নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই মানুষের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য তারেক রহমানের বিএনপি-র সঙ্গে কোনও গোপন আলাপ-আলোচনা চলছে কি না, সেই প্রশ্নও করা হয়েছিল তাঁকে। জবাবে শেখ হাসিনা বিএনপি-র সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার তত্ত্ব খারিজ করে দেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বিএনপি-ও সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের বিষয়টি অস্বীকার করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে হাসিনা বলেন, তাঁর বাবা এমন এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগসুবিধা পাবেন। হাসিনার দাবি, সেই বাংলাদেশে ধর্মীয় আগ্রাসন এবং মৌলবাদের জায়গা হতে পারে না। ফলে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা শুধু আওয়ামী লীগ রাজনীতিতেই নয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।