চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দক্ষিণ আফ্রিকার সমুদ্র উপকূলে ভাসমান একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ ঘিরে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। জাহাজে থাকা ১৪৯ জন যাত্রীর মধ্যে রয়েছেন দু’জন ভারতীয় নাগরিকও। তবে তাঁরা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই প্রথমবার প্রকাশ্যে এসেছে ওই জাহাজে থাকা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের তালিকা। তালিকা অনুযায়ী, অধিকাংশ যাত্রীই গ্রেট ব্রিটেন, আমেরিকা, জার্মানি এবং স্পেনের পর্যটক। এছাড়াও ফিলিপিন্স, ইউক্রেন, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের নাবিকরা রয়েছেন। এই তালিকাতেই দুই ভারতীয়র নাম উঠে এসেছে। তবে তাঁদের ভূমিকা কী, তাঁদের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা কেমন এবং তাঁরা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন কি না—এই বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য মেলেনি। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ওই ভাইরাস সংক্রমণে ৩ থেকে ৬ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। আক্রান্ত অন্তত ৮ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুর থেকে ছড়ায়। ইঁদুরের মলমূত্র, দেহাবশেষ কিংবা সংক্রমিত পরিবেশ থেকেও ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হান্টাভাইরাস একটি আরএনএ ভাইরাস। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুস ও কিডনির গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয় জ্বর, পেশির ব্যথা এবং পেশিতে খিঁচুনি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। জাহাজে থাকা দুই ভারতীয় আক্রান্ত কিনা তা নিশ্চিত না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয়েছে কি না, তাঁরা কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন কি না কিংবা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে থাকা ওই জাহাজ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।