ad
ad

Breaking News

Elon Musk

ভারতের জন্মহার নিয়ে কেন হঠাৎ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করলেন এলন মাস্ক?

এর ফলে দেশের ইতিহাসে এই প্রথম সামগ্রিক প্রজনন হার প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে নেমে গেল।

elon-musk-raises-concern-india-declining-birth-rate-replacement

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ভারতের নিম্নমুখী জন্মহার নিয়ে এবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী তথা টেসলা প্রধান এলন মাস্ক। তাঁর মতে, ভারতের জন্মহার বা প্রজনন হার ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’ বা প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে নেমে গিয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের জনসংখ্যার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (প্রাক্তন টুইটার)-এ ভারতের জনসংখ্যা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যান শেয়ার করে মাস্ক লিখেছেন, ‘ভারতের জন্মহার এখন প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে। শুধু তা-ই নয়, এ দেশের সবচেয়ে উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে এই জন্মহার বহু বছর আগেই প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে নেমে গিয়েছে।’

সাম্প্রতিক সরকারি ও আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে মোট প্রজনন হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট) প্রতি নারীর ক্ষেত্রে কমে ১.৯-এ এসে ঠেকেছে। অথচ মাত্র এক দশক আগেও এই হার ছিল প্রায় ২.৩। এর ফলে দেশের ইতিহাসে এই প্রথম সামগ্রিক প্রজনন হার প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে নেমে গেল। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো হাতে গোনা কয়েকটি রাজ্যই কেবল এই স্তরের উপরে রয়েছে। দেশের সিংহভাগ রাজ্যেই জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক; সেখানে প্রজনন হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.২, যা ইউরোপের উন্নত দেশ ফিনল্যান্ডের চেয়েও কম।

জনসংখ্যার পরিভাষায় ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’ বা প্রতিস্থাপন স্তর হলো এমন একটি সূচক, যা এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে কোনো দেশের জনসংখ্যাকে স্থিতিশীল বা সমতায় রাখতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, জনসংখ্যাকে না বাড়িয়ে বা না কমিয়ে একদম সমান রাখতে একজন মহিলার গড়ে যতগুলি সন্তান থাকা প্রয়োজন, তাকেই প্রতিস্থাপন স্তর বলা হয়। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এই আদর্শ হার হলো ২.১। বর্তমানে ভারতের জনসংখ্যা ১.৪৬ বিলিয়ন বা ১৪৬ কোটিরও বেশি এবং ২০২৩ সালে চিনকে টপকে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, জনসংখ্যার এই বিশাল আকারই কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় না, বিশেষ করে যখন দেশের জন্মহার ক্রমাগত নিচের দিকে নামছে।

ভারতে প্রজনন হার ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার নেপথ্যে সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতিবিদরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণকে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মতে, দেশজুড়ে নারীদের শিক্ষার হার ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়া, দ্রুত নগরায়ণ বা শহরমুখী প্রবণতা, কর্পোরেট ও অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া খরচের কারণে অনেকেই এখন দেরিতে বিয়ে করছেন কিংবা একটির বেশি সন্তান নিতে চাইছেন না। এই আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাব এবং পারিবারিক কাঠামোর বদল দেশের বড় বড় মেট্রো শহরগুলোতে সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা সামগ্রিকভাবে ভারতের জনসংখ্যাগত ভবিষ্যৎকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।