চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ইসলামাবাদে বহু প্রতীক্ষিত ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হতেই চেনা মেজাজে ধরা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনওরকম সৌজন্য দেখানোর বদলে রীতিমতো তাচ্ছিল্যের সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনে ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ফের আলোচনায় বসবে কি না, তা নিয়ে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন।
সোমবার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে ফের আলোচনার টেবিলে বসা হবে কি না, তা আমি জানি না। বিষয়টি নিয়ে আমি একেবারেই চিন্তিত নই। সত্যি বলতে, আমার এতে কিছুই যায় আসে না।” তবে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তিনি দাবি করেছেন, ইরান নাকি এখনও আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে বসতে মুখিয়ে আছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তেহরান কথা দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখবে এবং কোনওদিন পরমাণু বোমা বানাবে না। যদিও হোয়াইট হাউসের এই দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইরান সরকার।
উল্লেখ্য, শনিবার বৈঠক শুরু হওয়ার আগে থেকেই ট্রাম্পের নেতিবাচক অবস্থান আলোচনার সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময় তিনি দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন যে, আমেরিকা এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই জয়ী হয়েছে, তাই চুক্তি হওয়া বা না হওয়াতে তাঁর কিছু যায় আসে না। অন্যদিকে, তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন আগে থেকেই মনস্থির করে এসেছিল যে তারা কোনও শর্ত মানবে না। ইরান মনে করে, আমেরিকা ইচ্ছাকৃতভাবেই এই শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে দিয়েছে।
শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর পালটা রণকৌশল হিসেবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওই জলপথ দিয়ে জাহাজ যাতায়াত এবার থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে খোদ আমেরিকা। মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে সমস্ত জাহাজ ইরানকে ‘বেআইনি’ শুল্ক দিয়ে ওই পথে যাতায়াত করছে, তাদের চিহ্নিত করতে। গভীর সমুদ্রে ওই জাহাজগুলির নিরাপত্তা দিতে ওয়াশিংটন আর দায়বদ্ধ নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের মেঘ যে আরও ঘনীভূত হল, তা বলাই বাহুল্য।