চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মার্কিন সেনাবাহিনীর আকস্মিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নাটকীয় মোড় এল। শনিবার গভীর রাতে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট এক জরুরি নির্দেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দেশের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই পদক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রদ্রিগেজ রাষ্ট্রপ্রধানের যাবতীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ করবেন। তবে কৌশলী অবস্থানে থাকা আদালত এখনই মাদুরোকে স্থায়ীভাবে অপসারিত ঘোষণা করেনি, কারণ আইন অনুযায়ী তেমন ঘোষণা দিলে ৩০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ত।
গত কয়েক ঘণ্টা ধরে ভেনেজুয়েলা এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটন দাবি করছে যে মার্কিন অভিযানের পর মাদুরোর জমানা শেষ হয়েছে এবং দেশে পরিবর্তন এসেছে, অন্যদিকে কারাকাস প্রশাসনের দাবি— মাদুরোই আইনত দেশের প্রেসিডেন্ট। এই রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির মাঝেই সুপ্রিম কোর্ট রদ্রিগেজকে সামনে নিয়ে এল। তাঁর সামনে এখন পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সেনা ও আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা এখন তাঁর প্রধান পরীক্ষা। ডেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে পরিচিত। ১৯৬৯ সালের মে মাসে এক কট্টরপন্থী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া রদ্রিগেজের রক্তেই ছিল বিপ্লবের আদর্শ। তাঁর বাবা জর্জে আন্তোনিও রদ্রিগেজ ছিলেন একজন বামপন্থী গেরিলা নেতা এবং লিগা সোশ্যালিস্তা দলের প্রতিষ্ঠাতা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সেই বামপন্থী চেতনা ডেলসিকে রাজনৈতিক উত্থানে সাহায্য করেছে। নিকোলাস মাদুরোর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ মহলের সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
পেশাগত জীবনে ডেলসি একজন দক্ষ আইনজীবী ও কূটনীতিবিদ। ভেনেজুয়েলার সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বলিভারিয়ান আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের অনুগামী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভিত শক্ত করেছিলেন। এখন মাদুরোর অবর্তমানে এক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর কাঁধেই পড়ল দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার গুরুদায়িত্ব।