চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নানান প্রাচীন গির্জা রয়েছে যাদে র স্থাপত্যশৈলী তাক লাগিয়ে দেয়। কিন্তু এই বিশ্বে রয়েছে এমন এক গির্জা, যার অসামান্য স্থাপত্যশৈলীর পাশাপাশি নির্মাণের সময়সীমার জন্যও তা সমান ভাবে আকর্ষণীয়। ৬৩২ বছর ধরে তৈরি হয়েছে গির্জাটি (Cologne Cathedral)।
গির্জার নাম কোলন ক্যাথিড্রাল। জার্মানির কোলন শহরে রয়েছে এই ঐতিহাসিক গির্জা। এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১২৪৮ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সেই কাজ শেষ হয়।

তহবিলে অর্থর অভাব, বারবার স্থাপত্যশৈলীতে পরিবর্তন আর তৎকালীন ইউরোপের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের নানান পরিবর্তনের কারণে বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয় কোলন ক্যাথিড্রালের নির্মাণ কাজ। তাই নির্মাণ কাজ শেষ হতে সময় লেগে যায় ৬৩২ বছর। ১৮৮০ সালে নির্মাণের পর এটি ছিল সে সময় বিশ্বের সর্বোচ্চ বহুতল (Cologne Cathedral)।

কোলন ক্যাথিড্রাল জার্মানি তথা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন দ্রষ্টব্য। এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য। প্রতিদিন ক্যাথিড্রালের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন ৭০-১০০ জন কর্মচারী।

গথিক শৈলীতে নির্মিত ক্যাথিড্রালগুলির মধ্যে বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম ক্যাথিড্রাল হল কোলন ক্যাথিড্রাল।

গির্জার উচ্চতা ১৫৭ মিটার। গির্জা তৈরি করতে ৩ লাখ টন পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। ২০ হাজারের বেশি মানুষ একসময় থাকতে পারেন এই গির্জার অন্দরে। প্রাচীন এই ক্যাথিড্রাল আজও পর্যটকদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয়।

ক্যাথিড্রালের রঙিন কাচের জানলা খুব আকর্ষণীয়। গির্জার ১০ হাজার বর্গ মিটার জুড়ে শুধু জানলা তৈরি করা হয়েছে। আজো এটি বিশ্বের যে কোনো ক্যাথিড্রালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানলাযুক্ত ক্যাথিড্রাল হিসাবে পরিচিত (Cologne Cathedral)।

এই কোলন ক্যাথিড্রালে রয়েছে বাইবেল উইন্ডো, যা বাইবেলের কাহিনি তুলে ধরে। মধ্য যুগের কিছু জানলা আজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

কাঠের বদলে লোহা দিয়ে তৈরি কোলন ক্যাথিড্রালের ছাদ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই ছাদ ক্যাথিড্রালকে গুরুতর ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছিল (Cologne Cathedral)।