Bangla Jago TV Desk : মায়ানমারে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চীন–মায়ানমার সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে শুক্রবার খবর প্রকাশিত হয়েছে মায়ানমারের গণমাধ্যমে। মায়ানমারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে চীনের। চীনের সীমান্তবর্তী মায়ানমারের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে মাসখানেক ধরে সামরিক জুন্টার সঙ্গে বিদ্রোহীদের লড়াই চলছে। বিদ্রোহীরা সেনাদের ওপর বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই হামলা চালাচ্ছে। একই সময়ে চীন ও মায়ানমারের সামরিক জুন্টা ওই অঞ্চলে ইন্টারনেট প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
চীনের অভিযোগ, এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছে তাদের দেশের অনেক নাগরিক। অভিযানে আটক প্রতারক চক্রের কয়েক হাজার সদস্যকে চীনের কাছে হস্তান্তর করেছে। গণমাধ্যমের একটি খবরে বলা হয়েছে, চীনের রাষ্ট্রদূত চেন হাই মায়ানমারের সামরিক জুন্টা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে শীর্ষ সেনা আধিকারীকরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুপক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, দুই দেশের জন্য লাভজনক দ্বিপক্ষীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ দুই দেশের সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকের বিষয়ে চীনা দূতাবাস থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ২০২১ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে চীন মায়ানমারের সামরিক জুন্টা সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তবে মায়ানমারের উত্তর–পূর্বাঞ্চলে চীন সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার কারণে দুই দেশের সম্পর্কে নানা সময় জটিলতা দেখা দিয়েছে।
এই অঞ্চলে প্রায়ই কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। মায়ানমার কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের সন্দেহ, চীন ওই সীমান্তে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিচ্ছে। ভিন্নমতাবলম্বী ও জাতীয়তাবাদীদের ওপর সামরিক জুন্টার দমন–পীড়ন শুরুর পর ইয়াঙ্গুনে বিরল এক প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। সেখানে চীনা দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারিদের ব্যানার–প্ল্যাকার্ডে বেইজিংয়ের সমালোচনা করে নানা কথা লেখা ছিল। ইংরেজিতে একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘তারা চীনা সরকারের প্রতি অনুরোধ করছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে সমর্থন না করার।’ সামরিক জুন্টা সরকার এই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিতে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। পরে জুন্টা সরকারের মুখপাত্র জো তুন বলেন, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ওই বিক্ষোভ হয়েছে। তিনি চীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ না করে বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যম চীনের সঙ্গে মায়ানমারের সম্পর্ক ধ্বংস করতে চায়।
FREE ACCESS