ad
ad

Breaking News

Mercedes-Benz

পরপারে বিলাসবহুল যাত্রা! বাবার কবরে ১.৫ কোটির মার্সিডিজ পুঁতে দিল ছেলেমেয়েরা

কোটি টাকার মার্সিডিজেই কি স্বর্গে যাবেন বাবা? চীনের পরিবারের ‘অদ্ভুত’ শ্রদ্ধাঞ্জলি দেখে চক্ষু চড়কগাছ নেটিজেনদের।

Chinese Family Buries Mercedes-Benz Worth Rs 1.5 Crore

চিত্র- এআই নির্মিত

Bangla Jago Desk: পরলোকে প্রিয়জনের বিলাসিতায় খামতি রাখতে চাননি পরিবারের সদস্যরা। তাই শখের গাড়ি সংগ্রাহক বাবার শেষযাত্রায় মাটির নিচে আস্ত এক কোটি টাকার মার্সিডিজ বেঞ্জই (Mercedes-Benz) পুঁতে দিয়েছিলেন ছেলেমেয়েরা! কিন্তু ভক্তির সেই চোট শেষমেশ চরম বিপত্তি ডেকে আনল। উত্তর চিনের লিয়াওনিং প্রদেশের এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবারটিকে কড়া ধমক দিল প্রশাসন। শেষমেশ শুধু ক্ষমা চাইতেই হল না, বড়সড় জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে ওই পরিবারকে।

মৃত ব্যক্তিটি সত্তরোর্ধ্ব ছিলেন এবং তাঁর গাড়ির প্রতি ছিল এক অদ্ভুত টান। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলেমেয়েদের মনে হয়েছিল, পরকালেও যেন বাবা নিজের প্রিয় গাড়িতেই ঘুরে বেড়াতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই প্রায় ১.১ মিলিয়ন ইউয়ান (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৪৯ কোটি টাকা) মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ এস৪৫০এল (S450L) গাড়িতে বাবার দেহ বসিয়ে তা সমাধিস্ত করা হয়। গাড়িতে লাগানো ‘৮৮৮৮’ নম্বরের প্লেটটির দামও ছিল কয়েক লক্ষ টাকা।

খবর অনুযায়ী, লাল কাপড়ে মুড়িয়ে এবং লুকিং মিররে লাল ফিতে বেঁধে দামী গাড়িটিকে ক্রেন দিয়ে কবরে নামানো হয়েছিল। যে গ্রামবাসী ও কর্মীরা এই কাজে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের ৫০০ ইউয়ানের ‘রেড এনভেলপ’ বা বকশিসও দেওয়া হয়। কিন্তু দাফনের পরের দিনই টনক নড়ে প্রশাসনের। স্থানীয় সিভিল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এই ঘটনাকে ‘সামন্ততান্ত্রিক কুসংস্কার’ হিসেবে দেগে দিয়ে পরিবারটিকে তলব করে। পরিবেশ দূষণ ও বেআইনিভাবে গাড়ি সমাধিস্থ করার অপরাধে তাঁদের অবিলম্বে গাড়িটি তুলে ফেলার এবং জায়গাটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিনে প্রথাগতভাবে মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য কাগজের তৈরি বাড়ি বা গাড়ির রেপ্লিকা পোড়ানো হয়। কিন্তু রক্তমাংসের পৃথিবীতে আস্ত বিলাস বহুল গাড়ি মাটির নিচে পুঁতে দেওয়ার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ একে ‘বিত্তের আস্ফালন’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এক ইউজার লিখেছেন, “এঁরা পরলোকের চিন্তা করছেন ঠিকই, কিন্তু বর্তমানে পরিবেশের যে ক্ষতি করছেন তা নিয়ে কোনও বোধ নেই।” পরিবারের পক্ষ থেকে শোকের বহিঃপ্রকাশ বলা হলেও, আপাতত জনসমক্ষে ক্ষমা চেয়ে এবং আইনি লড়াই লড়েই তাঁদের এই ঝক্কি সামলাতে হচ্ছে।