চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সিইএস (কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো) প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং রোবোটিক্সের ভিড়ে মেলায় সবার নজর কেড়েছে একটি অদ্ভুত ললিপপ, যা খাওয়ার সময় সরাসরি আপনার মাথায় গান শোনাবে। ‘ললিপপ স্টার’ নামের এই ক্যান্ডিটি মূলত বোন-কন্ডাকশন প্রযুক্তির সাহায্যে কাজ করে। যখন কেউ এটি খাবেন বা কামড় দেবেন, তখন হাড়ের কম্পনের মাধ্যমে গানটি সরাসরি কানের ভেতরে পৌঁছে যাবে।
লাভা কোম্পানির তৈরি এই ললিপপে আইস স্পাইস, একন এবং আরমানি হোয়াইটের মতো বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকাদের গান শোনা যাবে। কোম্পানির মুখপাত্র ক্যাসি লরেন্স জানিয়েছেন, ললিপপটি মুখে দিলেই খুলির হাড়ের কম্পনের মাধ্যমে শব্দতরঙ্গ অন্তঃকর্ণে পৌঁছাবে, যা ব্যবহারকারীকে এক অনন্য অভিজ্ঞতার স্বাদ দেবে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, প্রতিটি ললিপপের স্বাদ ও ছন্দ আলাদা এবং এর মাধ্যমেই আপনার মুখ এক একটি কনসার্ট হলে পরিণত হবে। এই অদ্ভুত উদ্ভাবনের প্রতিটি ললিপপের দাম রাখা হয়েছে ৮.৯৯ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮০৮ টাকা।
তবে এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের একাংশ একে একেবারেই নিরর্থক বলে মনে করছেন। অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে শিশুদের টুথব্রাশেও এই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো। হানা মন্টানার গান বাজানো সেই টুথব্রাশের কথা উল্লেখ করে অনেকেই একে ‘পুরানো প্রযুক্তির নতুন রূপ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। জনৈক ব্যবহারকারী মজার ছলে লিখেছেন, “আমি চাই না ক্যান্ডি খাওয়ার সময় আমার মাথায় বিজ্ঞাপন বাজুক।”
অন্য এক সমালোচকের মতে, এটি অন্যতম অর্থহীন একটি আবিষ্কার। কারণ ললিপপটি যতক্ষণ মুখে থাকবে, ততক্ষণই খুব নিম্নমানের শব্দ শোনা যাবে। যদি দ্রুত খাওয়া হয়ে যায় তবে পুরো গান শোনা সম্ভব হবে না, আবার ধীরে খেলে একই গান বারবার শুনতে হবে যা বিরক্তির কারণ হতে পারে। আপাতত সিইএস ২০২৬ শেষ হওয়ার পর ললিপপ স্টারের ওয়েবসাইটে এই ক্যান্ডি বিক্রির জন্য উপলব্ধ হবে। বর্তমানে এর প্রি-লঞ্চের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকা বা ওয়েটলিস্টে নাম লেখানোর সুযোগ দিচ্ছে সংস্থাটি।