ad
ad

Breaking News

Gaza

ইদের দিন গাজায় হামলা, নিহত ৬৮

ইজরায়েলের হামলা শুরুর আগে গাজার প্যালেস্তিনিরা ইদের সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উদযাপন করতেন। তবে এখনকার চিত্র ভিন্ন।

Attacks in Gaza on Eid, 68 killed

চিত্র : সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ইদুল ফিতরের দিনেও গাজায় হামলা চালাল ইজরায়েল। ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় শিশু-সহ কমপক্ষে ৬৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্যালেস্টাইনের কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ গাজায় রাফার কাছে ইজরায়েলি গুলিতে নিহত আট চিকিৎসক, পাঁচজন বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মী ও জাতিসংঘের একজন কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস)।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, ‘বিধ্বংসী ঘটনা’ ২০১৭ সালের পর বিশ্বের যেকোনও জায়গায় তাদের কর্মীদের ওপর এটি সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইজরায়েলি হামলায় শুরু থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ হাজার ২৭৭ জন প্যালেস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৯৫ জন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস প্রায় দুই মাস আগে মৃতের সংখ্যার তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গাজায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬১ হাজার ৭০০ জনে। হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছে। এসব মানুষ মারা গিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাজায় রবিবার পালিত হয়েছে পবিত্র ইদুল ফিতর। তবে ইজরায়েলের নৃশংস হামলায় বিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে ছিল না উৎসবের আমেজ। এ দিনও সেখানে নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনী।

মুসলিমদের খুশির দিনটিতে গাজায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ প্যালেস্তিনি। দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে চলা হামলায় গাজায় আর কোনও মসজিদ অবশিষ্ট নেই বললেই চলে। রবিবার তাই উপত্যকাটির বাসিন্দাদের ইদের নামাজ আদায় করতে হয়েছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া মসজিদের বাইরে। আগের দিনে গাজার যেসব শিশু নতুন পোশাক পরে আনন্দ করত, তারা এখন ক্ষুধায়-আতঙ্কে কাতর। ইদ উপলক্ষে নেই তেমন রান্নার আয়োজনও। 

[আরও পড়ুন: নতুন আর্থিক বছরে ব্যাঙ্কের নিয়মে আসছে বড় পরিবর্তন]

ইজরায়েলের হামলা শুরুর আগে গাজার প্যালেস্তিনিরা ইদের সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উদযাপন করতেন। তবে এখনকার চিত্র ভিন্ন। বহু গাজাবাসী তাঁদের পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন। রবিবার অনেককে দেখা যায় প্রিয়জনের কবরের পাশে। অনেকে হাজির হন হাসপাতালের মর্গে—শেষবারের মতো কাছের মানুষের মরদেহটি দেখতে।

ইজরায়েলের হামলায় গাজার বাসিন্দা আদেল আল-শায়ের তাঁর পরিবারের ২০ সদস্যকে হারিয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ঈদের নামাজ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ‘এই ঈদটা কষ্টের। আমরা আমাদের ভালোবাসার মানুষগুলিকে হারিয়েছি। আমাদের সন্তান, আমাদের জীবন, আমাদের ভবিষ্যৎ—সবকিছু। আমরা তো সব হারিয়েছি।’