চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: প্রযুক্তি শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার যত দ্রুত ঘটছে, ততই বাড়ছে কর্মীদের অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক এক ছাঁটাই পর্ব সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বহু কর্মী একসঙ্গে চাকরি হারিয়েছেন, আবার কেউ কেউ চাকরি ধরে রাখতে পারলেও হারিয়েছেন নিজের পদ, দায়িত্ব এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের। এক মহিলা কর্মীর অভিজ্ঞতা এখন প্রযুক্তি শিল্পের বৃহত্তর সঙ্কটের প্রতীক হয়ে উঠেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকা অবস্থায় তিনি জানতে পারেন, সংস্থায় বড়সড় কর্মী ছাঁটাই হতে চলেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে অপেক্ষা ও উদ্বেগ। কারণ চাকরি হারালে শুধু পেশাগত ভবিষ্যৎ নয়, ব্যক্তিগত জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারত। শেষ পর্যন্ত তাঁর চাকরি রক্ষা পেলেও পুরো দলটি ভেঙে যায়। নেতৃত্বের দায়িত্বও আর থাকল না। নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁকে অন্য ভূমিকায় কাজ করতে হবে। এই ঘটনাই দেখিয়ে দিচ্ছে, বর্তমান কর্পোরেট পরিবেশে শুধু চাকরি থাকাই যথেষ্ট নয়, কাজের ধরন ও অবস্থানও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।
করোনা মহামারির সময় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি ব্যাপক হারে কর্মী নিয়োগ করেছিল। অনলাইন পরিষেবার চাহিদা বৃদ্ধির ফলে তখন দ্রুত সম্প্রসারণই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু বাজার স্বাভাবিক হতেই সেই বৃদ্ধির গতি থেমে যায়। আয় কমতে শুরু করে, বাড়তে থাকে খরচ। ফলে শুরু হয় পুনর্গঠন এবং কর্মীসংখ্যা কমানোর প্রক্রিয়া। এখন সেই পুনর্গঠনের কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সংস্থাগুলি বিশ্বাস করছে, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করতেই হবে। নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ, গবেষক নিয়োগ এবং উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশাও।
অনেক কর্মীর মতে, আগে যেখানে একটি কাজ সম্পন্ন করতে একাধিক মানুষের প্রয়োজন হত, এখন সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কম কর্মী দিয়েই বেশি কাজ করানো সম্ভব হচ্ছে। যদিও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এখনও মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠেনি এই প্রযুক্তি। বরং এটি কর্মীদের কাজের গতি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর একটি হাতিয়ার। তবে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে, তা হল চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বা নিষ্ঠা কোনও কিছুই আর নিশ্চিত ভরসা নয়। ফলে কর্মীদের ক্রমাগত নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হচ্ছে। কিন্তু সব পরিবর্তনের মাঝেও অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের মূল্য কোনও প্রযুক্তিই কমিয়ে দিতে পারে না। কর্মজীবনের সাফল্যের পাশাপাশি সেই ভারসাম্য বজায় রাখাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।