ad
ad

Breaking News

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হামলা ইজরায়েলের, গাজায় নিহত ৭৩

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। ইজরায়েলের দাবি, হামলায় নিহত হন ১ হাজার ১০০ জনের বেশি। প্রায় ২৪০ জনকে পণবন্দি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

73 killed in Gaza as Israeli strikes despite ceasefire

চিত্র : সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: কার্যকর হওয়ার আগেই প্যালেস্তাইনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্যালেস্তাইনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস চুক্তির কিছু অংশ থেকে সরে এসেছে অভিযোগ করে চুক্তি অনুমোদন স্থগিত করেছে ইজরায়েল। তবে এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে হামাস। এদিকে যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে—এমন ঘোষণা আসার পরও গাজায় হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে ইজরায়েল।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময়ের বিষয়ে ইজরায়েল ও হামাস সম্মত হয়েছে বলে বুধবার কাতারে মধ্যস্থতাকারীরা ঘোষণা করেন। আগামী রবিবার থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলেও জানান তাঁরা। হামাস চুক্তির কিছু অংশ থেকে সরে এসেছে অভিযোগ করে চুক্তি অনুমোদন স্থগিত করেছে ইজরায়েল। অভিযোগ নাকচ করেছে হামাস। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের মন্ত্রিসভায় চুক্তিটি অনুমোদন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হামাস শেষ মুহূর্তে চুক্তির কিছু অংশ থেকে সরে এসেছে এমন অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক স্থগিত করার কথা জানায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতর।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর বলেছে, হামাস চুক্তির সব শর্ত মেনে নিয়েছে—মধ্যস্থতাকারীরা বিষয়টি না জানানো পর্যন্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করা হবে না। তবে ইজরায়েলের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য সামি আবু জুহরি। এর আগে এক বিবৃতিতে হামাসের রাজনৈতিক শাখার আরেক সদস্য ইজ্জাত আল-রিশেক বলেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের ঘোষণা করা যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হামাস।’

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে চুক্তি অনুমোদনের বিষয়টি ঝুলিয়ে দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর জোট সরকারের উগ্র-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মত্রিচ পদত্যাগের হুমকি দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন দেওয়া হলে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মিশর ও গাজা সীমান্তবর্তী ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ফিলাডেলফি করিডর থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইজরায়েল সম্মত হওয়ায় বিস্মিত হয়েছেন কাতার ইউনিভার্সিটির গালফ স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক লুসিয়ানো জাকারা। এখন ইজরায়েলি নেতারা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যার ফলে চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জাকারা বলেন, নেতানিয়াহু যদি এখন সেনা উপস্থিতি ধরে রাখার ওপর জোর দেন, তাহলে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার দায় হামাস নয়, ইজরায়েলের ওপর বর্তায়। কারণ, শেষ মুহূর্তে ইজরায়েল এই পরিবর্তন এনেছে।

যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে এমন ঘোষণা আসার পরও গাজায় নির্বিচার হামলা অব্যাহত রেখেছে ইজরায়েল। ওই ঘোষণা আসার পর ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২৩০ জন। গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২০ শিশু ও ২৫ মহিলা রয়েছেন।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইজরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় কমপক্ষে ৮১ প্যালেস্তিনি নিহত হন। এ নিয়ে ১৫ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে গাজায় ৪৬ হাজার ৭৮৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লক্ষ ১০ হাজার ৪৫৩ জন। তবে গাজায় নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত হাসপাতালে আসা মরদেহের ভিত্তিতে নিহতের পরিসংখ্যান দিয়ে থাকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ইজরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত বাসাবাড়ি ও স্থাপনার নিচে এখনও অনেক মরদেহ পড়ে আছে।

সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, ইজরায়েলি হামলার প্রথম ৯ মাসে গাজায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যানের চেয়ে প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। ইজরায়েলের দাবি, হামলায় নিহত হন ১ হাজার ১০০ জনের বেশি। প্রায় ২৪০ জনকে পণবন্দি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। সাময়িক অস্ত্রবিরতি ও বন্দিবিনিময়ের অধীনে তাঁদের প্রায় ১০০ জন এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। কেউ কেউ ইজরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ওই দিন থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইজরায়েল।