ad
ad

Breaking News

Zubeen Garg

চূড়ান্ত পর্যায়ে জুবিন গর্গ হত্যার মামলা, সামনের সপ্তাহে চার্জশিট জমা

ফরেনসিক, মেডিকো-লিগ্যাল রিপোর্টসহ মৌখিক সাক্ষ্য, ইলেকট্রনিক ডেটা ও নথিপত্রের উপর ভিত্তি করে চার্জশিট তৈরি হচ্ছে।

zubeen-garg-investigation

চিত্রঃ সংগৃহীত

সিঙ্গাপুরে রহস্যজনক মৃত্যুর পর দীর্ঘ দিন ধরে তদন্তের মুখে ছিল জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যু। অবশেষে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। অসম সিআইডি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এই ঘটনার তদন্তে। এসআইটি প্রধান ও অসম পুলিশ স্পেশাল ডিজি এম পি গুপ্তা জানান, “সিঙ্গাপুর থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ হাতে এসেছে। চার্জশিটে বিস্তারিত তথ্য থাকবে। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা চার্জশিট জমা দেব।”

তিনি আরও জানান, তদন্ত এখন অত্যন্ত অগ্রসর পর্যায়ে। ফরেনসিক, মেডিকো-লিগ্যাল রিপোর্টসহ মৌখিক সাক্ষ্য, ইলেকট্রনিক ডেটা ও নথিপত্রের উপর ভিত্তি করে চার্জশিট তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও, সিঙ্গাপুরে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী স্বেচ্ছায় তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। প্রতিটি ধাপই আইনি বিধি মেনে সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এসআইটি প্রধান।

জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভ করতে নেমে মৃত্যু হয় অসমের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের। তিনি উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হিসেবে North East India Festival (NEIF)-এর চতুর্থ সংস্করণে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর রহস্যের আবহ সৃষ্টি হয় এবং তদন্তে নেমে সিঙ্গাপুরে জুবিনের সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—NEIF-এর প্রধান আয়োজক শ্যামকানু মহান্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, দুই ব্যান্ড সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রভা মহান্ত। পরবর্তীতে জুবিনের আত্মীয় এবং অসম পুলিশের ডিএসপি সন্দীপন গর্গকেও গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, জুবিনের দুই পিএসও নন্দেশ্বর বরা ও প্রবীণ বৈশ্যের অ্যাকাউন্টে ১.১ কোটি টাকারও বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন ধরা পড়ে। এই ঘটনার পর তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আগে থেকেই দাবি করে আসছিলেন, জুবিনের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়। বরং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তের পরই অসম পুলিশ বুঝতে পারে, এটি সরাসরি খুন। প্রথম দিন থেকেই আমরা নিশ্চিত ছিলাম এটি খুন।” অভিযুক্ত শ্যামকানু মহান্ত, সিদ্ধার্থ শর্মা, অমৃতপ্রভ মহান্ত ও শেখর জ্যোতি গোস্বামী বর্তমানে খুনের মামলায় জেলে রয়েছেন।

হিমন্ত আরও ব্যাখ্যা দেন, জুবিনের মৃত্যুর পরপরই কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তাই অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও খুনের ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। গোড়া থেকেই অসম পুলিশ নিশ্চিত ছিল, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।