ad
ad

Breaking News

The Bengal Files

The Bengal Files: মুক্তির আগেই বিতর্কে বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’, আইনি নোটিশ পেলেন পরিচালক

আগামী ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বিতর্কিত এই ছবি মুক্তি পাচ্ছে

The Bengal Files: Vivek Agnihotri’s New Film Sparks Controversy

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: মুক্তির আগেই বিতর্কে জড়াল বিবেক অগ্নিহোত্রীর নতুন ছবি দ্য বেঙ্গল ফাইলস। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (২০২৫) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি। দ্য তাশখন্দ ফাইলস ও দ্য কাশ্মীর ফাইলস-এর পর পরিচালকের ‘ফাইলস ট্রিলজি’র তৃতীয় পর্ব এবার বাংলার পটভূমিতে। প্রথমে ছবির নাম ছিল দ্য দিল্লি ফাইলস, তবে পরে নাম বদলে রাখা হয় দ্য বেঙ্গল ফাইলস। কারণ ছবির কাহিনির কেন্দ্রবিন্দু ১৯৪৬ সালের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস এবং নোয়াখালি দাঙ্গা। ছবির মুক্তির সময় নিয়েও উঠছে অভিযোগ। কারণ, আগামী ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বিতর্কিত এই ছবি মুক্তি পাচ্ছে—এমনটাই নজরে এসেছে রাজনৈতিক মহলের (The Bengal Files)।

আরও পড়ুনঃ Library Arson: বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগারে পোড়ানো হলো মুজিব সংক্রান্ত একাধিক বই

বর্তমানে বিতর্ক ঘনীভূত হয়েছে ১৯৪৬ সালের দাঙ্গায় হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত গোপাল ‘পাঠা’ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে। গোপাল মুখোপাধ্যায়ের আসল নাম গোপাল মুখার্জি। তিনি কলেজ স্ট্রিটের মাংস ব্যবসায়ী পরিবার থেকে উঠে আসায় ‘পাঠা’ নামে পরিচিত হন। ১৯৯৭ সালে সাংবাদিক অ্যান্ড্রু হোয়াইটহেডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোপাল পাঠা স্পষ্ট বলেছিলেন, দাঙ্গার সময় তিনি তাঁর ছেলেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন—নারীদের প্রতি কোনও অশোভন আচরণ করা যাবে না, কাউকে লুট করা যাবে না। তাঁর কথায়, “নারীদের অসম্মান করা মানেই চরিত্রহীনতা। এমনকি রাবণও সেই কারণে ধ্বংস হয়েছিল।” তাঁর নাতি শান্তনু মুখোপাধ্যায় দ্য প্রিন্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমার ঠাকুরদা হিন্দুদের রক্ষার জন্য অস্ত্র ধরেছিলেন। মুসলিম দাঙ্গাবাজরা যখন মানুষ হত্যা করছিল, বাড়িঘর জ্বালাচ্ছিল, মহিলাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছিল, তখন তিনি দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করেছিলেন। তবে তাঁর মনে মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ছিল না। তিনিও বহু নিরপরাধ মুসলিমকে বাঁচিয়েছিলেন (The Bengal Files)।”

ছবির ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে, গোপাল পাঠার চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা সৌরভ দাস কপালে লাল টিপ পরিহিত অবস্থায় মা কালী মূর্তির সামনে বসে বক্তৃতা দিচ্ছেন। সংলাপ: “ভারত হিন্দুদের রাষ্ট্র। কিন্তু এই যুদ্ধে হিন্দুরা হারছে, জিতছে জিন্নাহ। কারণ আমরা সবাই এক নেশায় ডুবে আছি, আর সেই নেশার নাম গান্ধীর অহিংসা।” ট্রেলারে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় খোলা তলোয়ার হাতে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে দেখা গিয়েছে। ছবিতে গোপাল পাঠার চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা সৌরভ দাস, যিনি ২০২৪ লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা প্রচারকও ছিলেন। তবে বিতর্ক ঘনীভূত হতেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সৌরভ দাস বলেন, “আমি কেবল চরিত্রের কথা জানতাম, ছবির চিত্রনাট্য জানতাম না। কাজের ধরনই এখন এ রকম। যদি কোনও দিন হিটলারের চরিত্র করি, তাতে কি আমি নাৎসি সমর্থক হয়ে যাব (The Bengal Files)?”

Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial

ট্রেলার লঞ্চে সাংবাদিক বৈঠকে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী বলেন, “আমার ছবির গোপাল পাঠা একটি ‘ইনস্পায়ার্ড ক্যারেক্টার’। আমি গোপাল মুখোপাধ্যায়ের জীবন বা রাজনীতিতে প্রবেশ করিনি। তিনি ছিলেন নায়ক, আমি তাঁকে নায়ক হিসেবেই দেখিয়েছি। শান্তনুর দেওয়া সাক্ষাৎকার আর বিবিসি-তে দেওয়া গোপালের সাক্ষাৎকারের কথাই আমরা দেখিয়েছি। এর বাইরে কিছু নয়।” গোপাল পাঠার নাতি শান্তনু মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিচালক তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কখনও যোগাযোগ করেননি। বরং ছবিতে ও সামাজিক মাধ্যমে গোপাল পাঠাকে এক থা কসাই গোপাল পাঠা বলে উল্লেখ করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “আমার ঠাকুরদা কসাই ছিলেন না। তিনি কুস্তিগির, স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং অনুশীলন সমিতির সদস্য ছিলেন। তাঁর আদর্শ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে মিলত। তাঁকে butcher বা পাঠা বলে অপমান করা অসম্মানজনক।”

এই কারণে শান্তনু মুখোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এবং এফআইআরও দায়ের করেছেন। ৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে চলা দ্য বেঙ্গল ফাইলস-এ অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী, অনুপম খের, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য, পুনিত ইসার, রাজেশ খেরা, পল্লবী যোশী-সহ একঝাঁক অভিনেতা। তবে মুক্তির আগেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে গোপাল পাঠাকে ঘিরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ বলছে, ইতিহাসকে বিকৃত করে দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে এই ছবি। অপরদিকে অন্য পক্ষের মতে, সিনেমা কখনও ইতিহাসের বই নয়, এটি কেবল শিল্পের স্বাধীনতা। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়—ছবির কাহিনি ও বিতর্ক দ্য বেঙ্গল ফাইলস-কে আগামী দিনে আরও বেশি করে সংবাদ শিরোনামে রাখবে (The Bengal Files)।