চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বিগত কয়েক বছর ধরে টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ফেডারেশন বনাম ইম্পার লড়াই, শুটিং বন্ধ করে দেওয়া এবং দক্ষিণ ভারতীয় ছবির শুটিংয়ে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনায় বারবার কলঙ্কিত হয়েছে বাংলা সিনেমার জগৎ। এবার সেই অরাজকতার অবসান ঘটাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টলিউডের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে এবং শিল্পীদের অধিকার রক্ষায় রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ দায়িত্ব দিল নতুন সরকার।
“অভ্যাসে পরিণত হয়েছে ঝামেলা!”
এই বিষয়ে রুদ্রনীল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “যাঁরা এত বছর ধরে ঝামেলা করে এসেছেন, এটা তাঁদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নিজেদের ক্ষমতা আর অর্থের লোভে তাঁরা বাংলা এন্টারটেনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির সর্বনাশ করে দিয়েছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটিয়ে এখনও তাঁরা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু এবার সেই সব দাদাগিরি বন্ধ করার সময় এসেছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একটি দক্ষিণী ছবির শুটিংয়ে বাইরে থেকে আসা টেকনিশিয়ানদের বাধা দেওয়া এবং অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ পৌঁছয় মুখ্যমন্ত্রীর কানে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংস্কৃতি জগতে ‘দাদাগিরি’ বা ‘আমার কাছের লোক’ বলে কিছু চলবে না। শিল্পীদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে জয়ী হওয়া রূপা, রুদ্রনীল, হিরণ ও পাপিয়াকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন সচিব পর্যায়ের কর্তাদের সঙ্গে বসে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে।
দলমত নির্বিশেষে শুদ্ধিকরণ
নতুন সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধু শিল্প-সংস্কৃতি নয়, সব ক্ষেত্রেই এই ‘পাইয়ে দেওয়া’র রাজনীতি বন্ধ করতে তাঁরা দায়বদ্ধ। রুদ্রনীলের সংযোজন, “মুখ্যমন্ত্রী খুব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে এই অরাজকতা ডিলিট করাই আমাদের লক্ষ্য।”
টালিগঞ্জের অন্দরমহলের জট ছাড়াতে এই চার তারকা বিধায়ক কতটা সফল হন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে টলিউড তথা গোটা বাংলার সংস্কৃতি প্রেমী মানুষ।