ad
ad

Breaking News

SRIKANTH MOVIE REVIEW

অচলায়তন ভাঙার গল্পে ‘শ্রীকান্ত’! কেমন হল রাজকুমার রাও’র নতুন ছবি? রইল রিভিউ

'বায়োপিক'টির প্রাণকেন্দ্র বিজ্ঞান সাধক শ্রীকান্ত বোল্লা! যার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে রাজকুমার রাও'কে। শ্রীকান্তের জীবনের স্ট্রাগলগুলির বৈচিত্র্য ও বহুমাত্রিকতাই এই ছবির মূল সম্পদ।

SRIKANTH: Srikanth movie review with the flair of a life story of a blind boy who became the founder of bollant industries

অচলায়তন ভাঙার গল্পে 'শ্রীকান্ত'! (ছবিঃ সংগৃহীত)

Bangla Jago Desk: প্রথাভাঙ্গা শিল্পী সঙ্গে প্রথাভাঙা চিন্তাভাবনাকে বাস্তবায়ন হতে দেখাটা একটা অমূল্য রতন দেখার সুযোগের ন্যায় মাত্র। যেখানে আজকালের সিনেমা মানেই হিংসা দেখানো কিংবা শক্তিশালী পুরুষ চরিত্র নির্মাণে মত্ত থাকেন পরিচালকেরা, সেখানে কিছু পরিচালক গল্প দেখাতে ভালোবাসেন। একই চিত্রটা কিন্তু রয়েছে ‘বায়োপিক’ এর ক্ষেত্রেও। দর্শকদের সিনেমা হলে পয়সা খরচ করে যদি সিনেমায় দেখার মতো এমন কোনও মুহূর্তই না থাকে যা দেখে দর্শকদের মনের খিদে মেটে! তবে সেই সিনেমায় আর দেখার মতো থাকল কি? তাছাড়াও এসময়ে দাঁড়িয়ে কোনও বড়সড় প্রথা যা সিনমাকে পেঁচিয়ে ধরে রাখে বট গাছের শিকড়ের মতো, সেই শিকড়কেই যদি উপড়ে ফেলা যায় এতে কিছু সিনেমা প্রেমীরা অবশ্যই আছেন, যাদের কাছে বিষয়টা একেবারেই মন্দ নয়। সেই শিকড়কেই গোড়া থেকে উপড়ে তুলে ফেলেছেন, পরিচালক তুষার হিরানন্দানি।

১০ মে মুক্তি পেয়েছে ‘শ্রীকান্ত’। একজন দৃষ্টিশক্তিহীন মানুষের জীবনের অনবদ্য লড়াই এবং তাঁর সংগ্রামকে নিয়েই হিরানন্দানি সুন্দরভাবে এই গল্প তুলে ধরেছেন তাঁর সিনেমায়। ‘বায়োপিক’টির প্রাণকেন্দ্র বিজ্ঞান সাধক শ্রীকান্ত বোল্লা! যার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে রাজকুমার রাও’কে। শ্রীকান্তের জীবনের স্ট্রাগলগুলির বৈচিত্র্য ও বহুমাত্রিকতাই এই ছবির মূল সম্পদ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য, বৈষম্য, গুন্ডামির শিকার হয়েও শ্রীকান্ত কোনও দিন পালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি।

নব্বই এর দশকের এক গরীব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীকান্ত। দৃষ্টিশক্তিহীন ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন বাবা। কিন্তু মা ছেলেকে সেইদিন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন। এবং তাঁকে সবসময়ই নিজের কাছে আগলে রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন বাবার কাছে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর জীবনের সংগ্রাম বাড়তে থাকে। তবে সবকিছু উপেক্ষা করেই পড়াশোনায় মন দিতে থাকে ছোট্ট শ্রীকান্ত। ক্লাসে অনন্য ছাত্রদের থেকে শ্রীকান্ত পড়াশোনায় ভালো। গণিত এবং বিজ্ঞানে শ্রীকান্তের প্রখর জ্ঞান হওয়ার কারণে এটি তাঁকে অন্য ছাত্রদের থেকে পৃথক করে। সে চেয়েছিল বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করবে, কিন্তু একজন দৃষ্টিশক্তিহীন মানুষের পক্ষে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ কোথায় ভারতে? তাই একপ্রকার সিস্টেমের বাইরে গিয়েই চলতে থাকে স্বপ্ন জয়ের লড়াই। যে লড়াই-এ তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহায্য করেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম আজাদ। পরবর্তী কালে যখন শ্রীকান্ত নিজের ‘স্টার্টআপ’ খোলার জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজছিলেন, তখন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি সহ রতন টাটাও তাঁকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন।

গল্প তখন মোড় নেয় যখন শ্রীকান্তের জীবনে আসেন তাঁর শিক্ষিকা দেবিকা। তাঁর অবিরাম প্রচেষ্টা এবং অনুপ্রেরণার কারণে প্রথম শ্রীকান্ত দৃষ্টিশক্তিহীন ছাত্র হিসেবে বস্টনে এমআইটি-তে পড়াশোনাও করার সুযোগ পান। এরপর দেশে ফিরে এসে বন্ধুসম ব্যবসায়িক অংশীদার রবি মান্থার সহযোগিতায় বোল্যান্ট ইন্ডাস্ট্রি শুরু করেন। সিনেমায় ‘কেয়ামত সে কেয়ামত’ ছবির ‘পাপা কহতে হ্যায়’ গানের পুনঃব্যবহার খুব সুন্দর ভাবে গল্পে গাঁথা হয়েছে। ২ ঘন্টা ২ মিনিটের এই সিনেমা, যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে সঙ্গে সাহস জোগাবে, ভাবতে একপ্রকার বাধ্য করবে যে, শ্রীকান্ত পারলে আপনি কেন নয়? আমরা সবসময়ই ভীষণভাবে অপেক্ষায় থাকি যে কখন একটা ভালো বাণিজ্যিক সিনেমা আসবে বড় পর্দায় কিন্তু যখনই কোন ভালো সিনেমা বড় পর্দায় মুক্তি পায় তখন আমরা সেটা সিনেমা হলে গিয়ে নয়, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকি যে ওটিটি সিনেমাটি কবে রিলিজ করছে। তবে এই সিনেমাটি তখনই একপ্রকার জাস্টিফায়েড হবে, যখন ভিড় ওটিটিতে নয়,  সিনেমা হলের বাইরে দেখবেন পরিচালক। তবে বলিউডের অন্যান্য সিনেমা একদিনে ৬০ কোটি টাকা রোজগার করলেও এই সিনেমাটি এখনও তিনদিনের রোজগার মাত্র ১০ কোটি টাকা। যা প্রত্যাশিত থাকলেও, হতাশার।