চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণ ও স্টুডিওপাড়ায় শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মঙ্গলবার থমথমে ছিল টেকনিশিয়ান স্টুডিও। ইন্ডাস্ট্রির সব স্তরের শিল্পীরা যখন কর্মবিরতি ঘোষণা করে শোকাতুর হৃদয়ে বৈঠকে বসেছিলেন, ঠিক তখনই অন্দরের এক হাই-ভোল্টেজ বচসায় রণক্ষেত্রের রূপ নিল সভাকক্ষ। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে ওঠে যে, মাঝপথেই কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যান অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
সকাল ১০টা থেকেই স্টুডিওর অন্দরে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, শুভশ্রী থেকে শুরু করে কৌশিক সেন, উপস্থিত ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির রথী-মহারথীরা। সূত্র বলছে, বৈঠকের মাঝেই নিজের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দেন শ্রীলেখা। দীর্ঘ কেরিয়ারে ঋতুপর্ণা ও প্রসেনজিতের প্রভাবে কাজ হারানো এবং মানসিক হেনস্থার শিকার হওয়ার যে অভিযোগ তিনি প্রায়ই সমাজমাধ্যমে করে থাকেন, এদিন খোদ তাঁদের সামনেই সেই ‘বিস্ফোরক’ দাবি তোলেন অভিনেত্রী। শ্রীলেখার কথায়, “মানসিক অত্যাচার করেও মানুষকে মেরে ফেলা যায়!”
শ্রীলেখার এই অভিযোগে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েন উপস্থিত তারকারা। শোনা যাচ্ছে, সহ্যের সীমা ছাড়ানোয় মেজাজ হারান স্বয়ং ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অভিনেতা কৌশিক সেনও প্রকাশ্যেই শ্রীলেখার এই আচরণের তীব্র বিরোধিতা করেন। পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে টেবিলের ওপর উঠে পড়েন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। মৃত রাহুলের প্রসঙ্গ টেনে হাতজোড় করে প্রিয়াঙ্কা চিৎকার করে বলেন, “এখানে আমরা অন্য একটা কারণে জড়ো হয়েছি। আমার ছোট বাচ্চা আছে, তাঁকে অন্তত জানাতে চাই তার বাবার ঠিক কী হয়েছিল!”
প্রিয়াঙ্কার এই আর্তি আর সহকর্মীদের বিরোধিতার মুখে আর স্থির থাকতে পারেননি শ্রীলেখা। কান্নায় ভেঙে পড়ে শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দ্রুত স্টুডিও ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। বাইরে অপেক্ষারত সংবাদমাধ্যমকে ছবি তুলতেও নিষেধ করা হয় তাঁর পক্ষ থেকে। রাহুলের মৃত্যু তদন্ত এবং কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে বসা বৈঠক শেষ পর্যন্ত টলিউডের পুরনো কাসুন্দি আর অন্তর্দ্বন্দ্বের কদর্য রূপটাই যেন সামনে নিয়ে এল। দিনের শেষে ইম্পা এবং চ্যানেল প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও, শ্রীলেখা-কাণ্ডের পর স্টুডিওপাড়ার পরিবেশ রীতিমতো থমথমে।