চিত্র- সংগৃহীত
AK Bangla Desk: নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ মিছিলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘কুরুচিকর’ ছবি প্রদর্শনের অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে ফের মামলা দায়ের হল। কলকাতার মুচিপাড়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক অভিযোগ পৌঁছেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনে অভিনেত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। গত ২৪ জুলাই নিট দুর্নীতির প্রতিবাদে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ছাত্র মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচি ঘিরে হিংসা এবং সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগও ওঠে। ওই মিছিলেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবিযুক্ত একটি আপত্তিকর পোস্টার হাতে শ্রীলেখা মিত্রকে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ছবি পরে সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগেই রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র কেয়া ঘোষ আনন্দপুর থানায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানাতেও বিজেপির কয়েকজন নেতা-কর্মী অভিযোগ জানান। এবার মালদহের দুই বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে মুচিপাড়া থানায় আরও দু’টি মামলা পৌঁছেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম অভিযোগকারী মালদহের হাবিবপুর এলাকার শ্রীরামপুরের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, শ্রীলেখা মিত্র এবং মিছিলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে ওই পোস্টার প্রদর্শন করেন। এর ফলে জনমনে উত্তেজনা তৈরি এবং শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করেছেন মালদহের শ্রীবিষ্ণুপুর এলাকার আরও এক বাসিন্দা। তিনি শ্রীলেখার পাশাপাশি একটি বাম ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন। দু’টি অভিযোগই প্রথমে মালদহের সংশ্লিষ্ট থানায় ‘জিরো এফআইআর’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পরে মালদহের পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলা দু’টি কলকাতার মুচিপাড়া থানায় পাঠানো হয়। কারণ, শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে যে এলাকা থেকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়েছিল, তার একটি অংশ মুচিপাড়া থানার অধীনে পড়ে। সেই কারণে অভিযোগগুলির তদন্তের দায়িত্ব মুচিপাড়া থানার হাতে এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার ছবি ও ভিডিও, সমাজমাধ্যমের পোস্ট এবং মিছিলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা পোস্টারটি তৈরি করেছিলেন, কে তা মিছিলে নিয়ে এসেছিলেন এবং শ্রীলেখার ভূমিকা কী ছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। কেয়া ঘোষের দাবি, অভিনেত্রী একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করেছেন। বিজেপির তরফে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়েছে। ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে গেরুয়া শিবির। অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান, জনরোষ বা শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা তৈরি করা, উসকানিমূলক আচরণ এবং মানহানি সংক্রান্ত ধারা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।