চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতা, কাউন্সিলর ও বিধায়কদের আইনি জালে জড়ানোর ধারা এবার টলিউড স্টুডিও পাড়াতেও তীব্র কম্পন সৃষ্টি করল। প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা প্রতারণা এবং জালিয়াতির অভিযোগে এবার এফআইআর (FIR) দায়ের হলো টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। লগ্নির টাকা ফেরত চাইলে নিজের ‘বিধায়ক’ পরিচয় দিয়ে উল্টে বিনিয়োগকারীকে হুমকি দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গত ১৯ মে চারু মার্কেট থানায় সোহমের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী কৌশিক কর্মকার আড়িয়াদহের একটি সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে ২০২২ সালে সোহম চক্রবর্তীর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘সোহম এন্টারটেনমেন্ট’-এ মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ‘লাল সুটকেসটা দেখেছেন?’—নামক একটি চলচ্চিত্রে সোহম চক্রবর্তীর অভিনয় করার কথা ছিল এবং সেই উদ্দেশ্যেই কৌশিকবাবু ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা সোহমের সংস্থাকে দেন। অভিযোগ, চুক্তি মেনে পরবর্তীতে সেই ছবিটি তৈরি হয়নি এবং সোহম তাতে অভিনয়ও করেননি। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের দাবি, লগ্নির সময় যে চুক্তিপত্র তৈরি হয়েছিল, সেখানে সোহমের সংস্থার তরফ থেকে বেশ কিছু ভুয়ো ও জাল নথি ব্যবহার করা হয়েছিল। লগ্নির চুক্তি অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় এবং টাকা ফেরত না পেয়ে কৌশিকবাবু যখন সোহম চক্রবর্তীর কাছে নিজের টাকা ফেরত চান, তখন টাকা দেওয়া তো দূরস্ত, উল্টে নিজের বিধায়ক পদের প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে চরম হুমকি ও ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ।
সোহম চক্রবর্তীর যে সংস্থার বিরুদ্ধে এই কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে, সেটি চারু মার্কেট থানা এলাকার একটি ঠিকানায় নথিভুক্ত রয়েছে। কৌশিক কর্মকারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চারু মার্কেট থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক গুরুতর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে খবর, ঘটনার সত্যতা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ওই সংস্থার সমস্ত নথিপত্র চেয়ে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে বয়ান রেকর্ড এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুব শীঘ্রই অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে থানায় সমন বা তলব করা হতে পারে। সোহম চক্রবর্তীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর আসন থেকে জয়লাভ করে বিধানসভায় গিয়েছিলেন তিনি। তবে ২০blank সালের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে নদিয়ার করিমপুর আসন থেকে প্রার্থী করলেও, বিজেপি প্রার্থীর কাছে ১০ হাজারেরও বেশি ভোটে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন তিনি।